দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমান, মালয়েশিয়া এবং ভারতের থেকে এক দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে মোট ১ লাখ ১ হাজার টন ডিজেল। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই আমদানির মাধ্যমে দেশের প্রয়োজনীয় জ্বালানি গত আট দিন ধরে স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ রাখা সম্ভব হবে।
বন্দর ও শিপিং সংস্থা সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোরের আড়াইটায় ওমান থেকে ৩৫ হাজার টন ডিজেল নিয়ে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘গোল্ডেন হরাইজন’ চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে নোংর করে। এটি ছিল সেই দিনটির প্রথম চালান, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হয়েছিল।
এরপর বিকেলে আরও দুটি বড় জাহাজ বন্দরে পৌঁছায়। মালয়েশিয়া থেকে ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসা জাহাজ ‘এফপিএমসি ৩০’ বিকেল দুইটায় চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। একই সময়ে, ভারত থেকে এসেও সমপরিমাণ ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসে আরেকটি জাহাজ, যার নাম ‘প্যাসিফিক ইন্ডিগো’।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন দৈনিক গড়ে ১২ হাজার ৫০০ টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। এই পরিমাণের তুলনায়, আজকের এই আনা ১ লাখ ১ হাজার টন ডিজেল দিয়ে অন্তত আট দিনের জন্য দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
সেই সঙ্গে, স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ম্যানেজার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরবরাহ ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে দ্রুত তেল খালাসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, তারা আগে থেকেই লাইটার জাহাজ প্রস্তুত রেখেছেন, যাতে বড় জাহাজগুলো বহির্নোঙরে নোঙর করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খালাস কার্যক্রম শুরু করা যায়।
নজরুল ইসলাম আরও বলেছিলেন, গত কয়েক দিন ধরে এই ধরনের আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত শুক্রবারও চারটি জাহাজ টোটাল ১ লাখ ৩৬ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করেছে, যার খালাসের কাজ এখনো চলমান।
এদিকে, আগামী তিন দিনের মধ্যে আরও দুটি বড় জাহাজ দেশের বন্দরে পৌঁছানোর প্রত্যাশা রয়েছে, যাতে রয়েছে ৩৩ হাজার টন ডিজেল এবং ৩৪ হাজার ৬০০ টন জেট ফুয়েল (বিমান জ্বালানি)। এই ধারাবাহিক আমদানি চলাফেরার ফলে দেশের বাজারে জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









