ঢাকা | শনিবার | ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

চট্টগ্রাম বন্দর সচল করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি ডিসিসিআই এর

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম দ্রুত ও স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। বৃহস্পিতবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি উল্লেখ করে, চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা চালিয়ে গিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সমস্যা সমাধানে কাজ করতে সরকারের জোড়ালো ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ডিসিসিআই এর মতে, চট্টগ্রাম বন্দরকে বাংলাদেশের বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি পণ্য এই বন্দরের মাধ্যমে খালাস হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতি মাসে গড়ে ২.৬ লাখ টিইইউ পণ্য এবং দৈনিক গড়ে ৯,০০০ টিইইউ পণ্য খালাস হলেও, গত বুধবার থেকে এই কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে বন্দরে প্রায় ৫৪ হাজার কনটেইনার পণ্য আটকা পড়ে রয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণে বাধ্য করছে। ডিসিসিআই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে, এই অচলাবস্থার ফলে বিশেষ করে দেশের রপ্তানি খাতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। সংগঠনটি আরও জানায় যে, নির্ধারিত সময়ে পণ্য জাহাজীকরণ সম্ভব না হওয়ায় অনেক ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থানান্তরের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যদিও কিছু বিদেশি ক্রেতা সাময়িকভাবে সময় বাড়াতে রাজি হলেও, দীর্ঘস্থায়ী সংকট হলে তারা বিকল্প দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা নিতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে, দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র—চট্টগ্রাম বন্দরকে সচল রাখতে, ব্যবসায়ী, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সকল স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করার মাধ্যমে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করতে সরকারকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে ডিসিসিআই।