ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১লা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’ অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ শহরে মুক্তি পাচ্ছে

দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ানো চলচ্চিত্র ‘বনলতা সেন’ এবার আন্তর্জাতিক পরদায় পা রাখছে। রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনযাপন, সাহিত্যচর্চা ও তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘বনলতা সেন’কে ক্যানভাসে জীবন্ত করার এই ছবিটি খুব শিগগিরই অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, পার্থ ও এডেলাইডে প্রদর্শিত হবে। দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় প্রবাসী দর্শকদের জন্য এই সুখবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

চলচ্চিত্রটির নির্মাণশৈলী, নান্দনিক দৃশ্যায়ন, সংলাপের সরলতা এবং অভিনেতাদের মেলবন্ধন ইতোমধ্যে সমালোচক এবং সাধারণ দর্শক উভয়ের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল বলেন, “দেশে ‘বনলতা সেন’ যে ভালোবাসা পেয়েছে, তা পুরো টিমকে অনুপ্রাণিত করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী প্রবাসীদের কাছ থেকে দীর্ঘসময় ধরে ছবিটি দেখার অনুরোধ আসছিল। সেই চাহিদা নিয়েই আমরা পাঁচটি শহরে মুক্তির উদ্যোগ নিয়েছি।” তিনি জানান, শীঘ্রই সিনেমা হলে প্রদর্শন তালিকা এবং শো টাইমসমূহ প্রকাশ করা হবে।

নির্মাতার পরিকল্পনা শুধু অস্ট্রেলিতেই সীমাবদ্ধ নয়। মাসুদ হাসান উজ্জ্বল আরো জানান, পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকটি দেশে ছবিটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। তার লক্ষ্য বাংলা সাহিত্যভিত্তিক এই শৈল্পিক কাজকে আন্তর্জাতিক দরবারে পৌঁছে দেওয়া, যাতে বিদেশি দর্শকরাও আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধ রূপ দেখতে পান।

উল্লেখ্য, ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটি পবিত্র ঈদুল আজহার সময় দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এবং বর্তমানে বিভিন্ন সিনেমা হলে সফলতার সঙ্গে প্রদর্শিত হচ্ছে। জীবনানন্দ দাশের জীবন ও তাঁর সাহিত্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সিনেমার আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বাংলা চলচ্চিত্রের বৈশ্বিক উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ফিল্ম টিমের তরফে বলা হয়েছে, প্রবাসী দর্শক ও সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য অস্ট্রেলিয়া সফরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আশা করা যায়, অস্ট্রেলিয়ায় সফল প্রেক্ষাগৃহ প্রদর্শনের পর অন্যান্য দেশের দর্শকরাও ‘বনলতা সেন’-এর নান্দনিকতা ও সাহিত্যিক গভৎতা উপভোগ করতে পারবেন।