ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জুনে মব সহিংসতায় নিহত ৩৩, আহতের সংখ্যা ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি

দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বা মব জাস্টিসের প্রবণতা এখনো অপ্রতিরোধ্য। জুন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনি এবং মব সহিংসতার ঘটনায় কমপক্ষে ৩৩ জন নিহত ও ১২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর পূর্বের মাসে এই ধরনের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৩২ এবং আহত হন ৭১ জন। এক মাসের ব্যবধানে এই সহিংসতাগুলোর মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও আহতের হার আশঙ্কাজনকভাবে প্রায় ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মানবাধিকার পরিস্থিতির সামগ্রিক অবনতির বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) মঙ্গলবার এক রিপোর্ট প্রকাশ করে। সংবাদপত্রের খবর এবং নিজেদের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জুন মাসে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে খারাপ হয়েছে এবং অস্থিতিশীলতা বাড়ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, ব্যাপক গ্রেপ্তার, অজ্ঞাত লাশের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্তের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। এসব সূচক দেখিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষার ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, এই মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩০৩ জন আহত হয়েছেন এবং দলীয় সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন। সংগঠনের মতে, রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও সহিংস ও অনিরাপদ হয়ে গেছে। দলীয় ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলার কারণে হতাহতের সংখ্যা দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা বৈরি রাজনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র স্পষ্ট করে।

অতিরিক্ত তথ্য বলছে, জুন মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৯ জনের মৃত্যু হয় কারাগারে।

আবার, এই মাসে সাংবাদিকদের ওপর চাপ, হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটে ১৯টি, আইনি হয়রানিতে পড়েছেন ৬ জন এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ৩ জন সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়েছেন।

নদী, সড়ক, রেললাইন ও প্রান্তিক জমিতে পড়ে থাকা অজ্ঞাত ও পরিচিত লাশ উদ্ধার হয়েছে ৬৫টি; যা মে মাসে ছিল ৫৩টি।

সীমান্তে রোহিঙ্গা ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মেটানোর চেষ্টায় ৬ জন নিহত এবং ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এর পাশাপাশি ভারত থেকে ৪২৩ জনকে পুশব্যাকের চেষ্টাও চালানো হয়। সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা এখন আতঙ্কের মধ্যে আছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে সীমান্তে সহিংসতা কমলেও পুশ ইনের চেষ্টা বেড়েছে, যা বড় ধরনের মানবিক সংকটের আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সম্পর্কের অবনতি ঘটনাতে পারে।

এমএসএফের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুনে মোট ৩৪৮ নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়াও, ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১১টি নবজাতক আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাওয়া গেছে। মাদক কারবারের সংঘর্ষে এই মাসে ১৩ জন নিহত হয়েছেন।