ঢাকা | মঙ্গলবার | ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের দর বাড়ায় নিত্যপণ্যের দামও সমন্বয় করা হবে। তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব কমাতে সরকার সবদিক বিবেচনা করছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন ডা. জাহেদ। তিনি জানান, বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, তবে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জ্বালানির চাহিদা বাড়া এবং মানুষের মধ্যে অযাচিত ভীতির সৃষ্টি। বিশ্ববাজারের অস্থিরতার প্রভাব সবাইকে পীড়িত করছে, বাংলাদেশও এর বাইরে নেই; তবু সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়ছে—এ কথা স্বীকার করে তিনি যোগ করেন যে সরকার চেষ্টা করছে যেন জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব সাধারণ মানুষের কাঁধে বেশি না পড়া। মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিভাবে সামলানো হবে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় এবং নীতিগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে বলেছে প্রশাসন।

অর্থনৈতিক প্রসঙ্গেও তিনি পরিস্থিতি তুলে ধরেন—গত দুই মাসে সরকার প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে, যা কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে এবং এর প্রভাব জনগণের ওপর পড়তে পারে। তার পরেও তিনি আশ্বস্ত করেন যে পরিস্থিতি এখনও সংকটজনক পর্যায়ে বা ‘রেড জোন’-এ পৌঁছায়নি এবং নেওয়া ঋণগুলো মূলত জনগণের কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।

সংস্কৃতি ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ নিয়েও তিনি কথা বলেন। বাংলাদেশসহ মিয়ানমার, কম্বোডিয়া এবং ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সমন্বয় করে আঞ্চলিকভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। আগামী বছরের নববর্ষের আগেই এ ব্যাপারে একটি সুসংগঠিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে এবং পুরো বৈশাখ মাসজুড়ে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি মজুদ সম্পর্কেও তিনি তথ্য দেন—গত ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এক লাখ ২২ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন ডিজেল মজুদ রয়েছে, যা বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। সিদ্ধান্তমুখী এ সব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার চায়, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দামের ওঠানামির ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ঝটকা কম লাগুক।