বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা এবং সংসদ সচিবালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে বিশেষ উপহার পাঠিয়েছেন। সংসদ সূত্রে জানা যায়, প্রত্যেকের জন্য একটি করে ১০ কেজি ওজনের সুন্দর প্যাকেট রাখা হয়।
সোমবার (২২ জুন) সকালে সংসদ ভবনের করিডোরে এই ১০ কেজির প্যাকেটগুলো ঘিরে কৌতূহল দেখা যায়। পরে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিশ্চিত করেন যে প্যাকেটগুলোতে ছিল চলতি মৌসুমের প্রিমিয়াম মানের সুস্বাদু আম।
বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সংসদের প্রতিটি দপ্তরে গিয়ে এসব উপহার পৌঁছে দেন। দপ্তরের নামের উচ্চ–নিম্ন নির্বিশেষে সমানভাবে বণ্টন করা হয়—স্পিকারের কক্ষ থেকেও শুরু করে ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকসহ নিচু স্তরের কর্মীদেরও উপহার দেওয়া হয়।
উপহার বিতরণের এই সমবণ্টন নীতিকেই অফিসের প্রতিনিধিরা সবচেয়ে অনন্য বলে উল্লেখ করেন। সাধারণত বড় পদস্থ কর্মকর্তা-নীতিবিদেরাই উপহার পেয়ে থাকেন, কিন্তু এবার তালিকা থেকে সংসদের ক্ষুদ্র কর্মীরা বাদ থাকেননি।
একজন সাধারণ অফিস সহায়ক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘‘আমরা ছোট চাকরির মানুষ; বড় নেতাদের সুবিধা-সুবিধা দূর থেকেই দেখেই অভ্যস্ত। আজ এমনভাবে আমাদের কথাটা মনে রেখে উপহার পাঠানো হয়েছে—এটা আমাদের কাছে বড় সম্মান।’’
রাজনৈতিক-ঐতিহ্যের দিক থেকে সরকারি ও বিরোধীদলের মধ্যে দূরত্ব থাকলেও এই সৌহার্দ্যমূলক উদ্যোগকে অনেক সরকারি দলের সংসদ সদস্যও ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের আন্তরিক আচরণ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুস্থ সম্প্রীতি বাড়াতে সহায়ক হবে।








