ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ঢাকায় শুরু হলো ১৬তম ইনটেক্স বাংলাদেশ এক্সিবিশন

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সফল গার্মেন্টস ক্রেতা, বিপণন ও সরবরাহকারী এবং সোর্সিং এক্সিবিশন হিসেবে খ্যাত ইনটেক্স বাংলাদেশের ১৬তম আসর আজ রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে শুরু হয়েছে। এই তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল সোর্সিং শোতে ১০টিরও বেশি দেশের ১২৫টির বেশি কোম্পানি অংশ নিচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী ক্রেতা, সরবরাহকারী এবং উৎপাদনকারীদের জন্য একটি গতিশীল এবং সমৃদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

পোশাক শিল্পে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক হিসেবে বাংলাদেশ তার নিত্যনতুন উদ্ভাবনী কৌশল ও উন্নতমানের দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ২০২৬ সালের মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প রপ্তানি ৫৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ইনটেক্সের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা, সাপ্লাই চেইনে বৈচিত্র্য আনাসহ টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে উদ্ভাবন প্রদর্শনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন। পাশাপাশি বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, এলএবিসিসিআই, কেবিসিসিআই ও বিজিসিসিআইসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সংস্থার নেতৃবৃন্দও এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশ এখন পোশাক খাতে কেবল ক্রমবর্ধমান বিশ্ব বাজারের চাহিদা পূরণেই সীমাবদ্ধ নয়, দ্রুত টেকসই ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সাশ্রয়ী পোশাক উৎপাদনের একটি বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। উদ্ভাবন, টেকসই নিয়ম মানা এবং দক্ষ মানবসম্পদ বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা দায়িত্বশীল ফ্যাশন ও টেক্সটাইল সোর্সিংয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। ইনটেক্স বাংলাদেশ এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আমাদের পণ্যকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সাফল্যের সঙ্গে উপস্থাপন করবে।”

এই বছরের এক্সপোতে বিভিন্ন দেশের প্যাভিলিয়নে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ভারতের টেক্সপ্রোসিল ও পেডেক্সিল প্যাভিলিয়নে তুলা, মিশ্র সুতা ও টেকসই টেক্সটাইল প্রদর্শিত হচ্ছে। চীন তাদের টেকনিক্যাল ফ্যাব্রিক এবং গার্মেন্টস ট্রিম সরবরাহ করছে। দক্ষিণ কোরিয়া পরিবেশবান্ধব পারফরম্যান্স উপকরণ উপস্থাপন করছে। অন্যদিকে থাইল্যান্ড ও জাপান প্রিমিয়াম মানের শার্টিং ও বোনা পণ্য নিয়ে এ আসরে অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশি প্রদর্শনকারীরা নিটওয়্যার, ডেনিম এবং ভার্টিক্যালি ইন্টিগ্রেটেড উৎপাদন সিস্টেমের অগ্রগতি তুলে ধরেছে।

এক্সপোর প্রভাব বাড়াতে ইন্টারেক্টিভ বিজনেস ফোরাম (আইবিএফ) আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে দুটি সেশনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হবে। প্রথম সেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কীভাবে টেক্সটাইল উৎপাদন ও ফ্যাশনে সম্পৃক্ত হচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা হবে, আর দ্বিতীয় সেশনে বৈশ্বিক শুল্কনীতি ও বাণিজ্য পরিবর্তনের বাংলাদেশ রপ্তানিতে প্রভাব নিয়ে মতবিনিময় করা হবে। এই সেগমেন্টগুলো শিল্পের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা ও বৃদ্ধির কৌশল প্রদান করবে।

এছাড়াও ইনটেক্স বাংলাদেশ ২০২৫-এ ব্যবসায়িক সভা (বি২বি), বিশেষ ভিআইপি নেটওয়ার্কিং, এবং ক্রেতা-সরবরাহকারীদের মধ্যে ম্যাচমেকিং সুবিধাও রয়েছে, যা সোর্সিং এবং ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের জন্য সম্পূর্ণ এক অভিজ্ঞতা প্রদান করছে।

ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়ার আয়োজিত এই প্রদর্শনীটি বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিজিবিএ, ইপিবি, আইবিসিসিআই, এলেবিসিসিআই, কেবিসিসিআই ও বিজিসিসিআই-এর সমর্থন নিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ যখন আরও উদ্ভাবনী ও টেকসই টেক্সটাইল শিল্পের ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টিপাত করছে, ইনটেক্স বাংলাদেশ দেশটিকে গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে একযোগে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।