ঢাকা | মঙ্গলবার | ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

তথ্যমন্ত্রীর ভাষ্যে: সরকার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, জনতুষ্টি নয়

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সরকার জনতুষ্টির জন্য নয়, দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ও উন্নয়নের জন্য সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস রাখে এবং কোনো অভিযোগ না থাকলে দ্রুত ও অযৌক্তিকভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের নীতি অনুসরণ করে না। পাশাপাশি, তিনি আরও জানান যে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও আমদানি নির্ভরতার কারণে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষের পর সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সোমবার (০১ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের ফলে অধিকাংশ দেশই এখন মূল্য সমন্বয় করছে। বাংলাদেশ অনেক দিন ধরে সেই চাপ মোকাবেলা করে আগের দাম ধরে রেখেছিল। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বাংলাদেশের বেশির ভাগ জ্বালানি আমদানির মাধ্যমে আসে, তাই আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থা এবং আমদানির ব্যয় বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুধুমাত্র জনতুষ্টির জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকারের পক্ষে নয়, বরং অর্থনীতি ও সুশাসনের স্বার্থও বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠান যেমন ২১ ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখ শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। এসব সময়ে কোনও নেতিবাচক ঘটনা বা সমস্যা সরকারের নজরে আসে নি।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সম্পাদক, মালিক ও সাংবাদিক নেতাদের বৈঠকে জানান, দীর্ঘ সময় পর তারা কোনো সরকারি চাপ বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কাজ করতে পেরেছেন। সরকারও মনে করে যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য স্বতন্ত্র ও মুক্ত সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় বিভিন্ন মামলার বিষয়টি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নানা ধরনের মামলা হয়। তবে, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ বা অপরাধের ভিত্তিতে আইনের আওতায় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিভিন্ন পেশার মানুষ ও গণমাধ্যমের আরও সহযোগিতা ও সমর্থন ছিল। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আর নিরাপত্তা ও শাস্তির বিষয়েও তিনি বলেন, রাজধানীর হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা যদি হামলার শিকার হন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। তিনি emphasize করেন, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব। এ কাজে বাধা বা হস্তক্ষেপ অযোয্য এবং অপ্রীতিকর। বিশেষ করে সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ প্রতিবেদনের মাধ্যমে গণমাধ্যম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

সর্বোপরি, তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণমাধ্যমের স্বাধীন কার্যক্রম সেই লক্ষ্য অর্জনে এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।