ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

তথ্যমন্ত্রী: ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা আমাদের উপর

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আমরা ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা বহন করছি। বর্তমান সরকারকে এই ভঙ্গুর অর্থনীতির ভার নিতে হয়েছে, যা মূলত পূর্বের সরকারের অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণে সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর উত্তাপে মাসব্যাপী আয়োজন করা হয়েছিল ‘আলোকিত মাহে রমাদান’ নামে একটি ইসলামি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন এক সময় দেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনওভাবেই এই বোঝা আমাদের কাঁধে এসেছে। পূর্বের সরকার লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি দুর্বৃত্তায়িত করে গিয়েছিল, যার জন্য এখন আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রতি বছর আমাদের ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হয়। পাশাপাশি, আমাদের রপ্তানির আয় মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলার, আর রেমিট্যান্স থেকে আয় ২০ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থনীতি মূলত আমদানির উপর নির্ভরশীল, কারণ আমদানির পরিমাণ বর্তমানে ৬০-৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে দেশের ঘাটতি বাজেট ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি।’

অতীতের সরকারের দুর্নীতির দায় জনগণের কাঁধে এসে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব ভুলে গেলে ভবিষ্যতে দেশের পুনরুদ্ধার কঠিন হবে। আমাদের কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে এই ভাঙা অর্থনীতিকে আবার সুদৃঢ় করে তুলতে। তাই সব ভোটাদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে কেউ আমাদের অর্থনৈতিক সংকটের অজুহাতে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করতে না পারে।’

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘আমরা হাজার বছর ধরে বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। এর মধ্যে কোনো বিরোধের সুযোগ ছিল না। তবে যে القوى রাজনৈতিকভাবে ভোটবিহীনভাবে ক্ষমতা দখল করে ছিল এবং রাখতে চেয়েছিল, তারা জনগণের মধ্যে বিভেদের সৃষ্টি করতো, যেমন ধর্মীয় বিভাজন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদে বিরোধীদলের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাব। এই আলোচনা মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে, কেউ যেন রাজনৈতিক বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, তার জন্য আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলেম-ওলামাদেরও এই বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী দুই বছরে যদি আমরা শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ রক্ষা করতে না পারি, তাহলে ভাঙা অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না। দৈনন্দিন জীবন ও ধর্মীয় জীবনযাত্রাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, ‘ভবিষ্যতের রাজনীতিতে সামাজিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা করেন, তারা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হতে পারেন।’