ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

তথ্য গোপন করে জুলাই অভ্যুত্থানের সুবিধা নেয়ায় ২ বছরের কারাদণ্ড

যদি কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে বা তথ্য গোপন করে বিভ্রান্তিকর কাগজপত্র ব্যবহার করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য বা আহত जुलाई যোদ্ধা হিসাবে নিজেকে দাবি করে সুবিধা গ্রহণ করেন, তাহলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

সরকার গত মঙ্গলবার রাতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে। এই নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা সুবিধার দ্বিগুণ মূল্য অর্থদণ্ডের ব্যবস্থা রয়েছে।

অধ্যাদেশের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা, এর কার্যাবলী এবং কর্মচারীদের নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। চতুর্থ অধ্যায়ে অপরাধ ও বিচার বিধান নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কেউ যদি ‘শহীদ’ পরিবারের সদস্য বা আহত না হয় অথচ মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজেকে এ পরিচয়ে দাবি করে আর্থিক, চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সুবিধা নিলে, তাকে মামলার আওতায় আনা হবে।

এছাড়া, অপরাধ সাজার ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের সঙ্গে জরিমানাও থাকছে, এবং এসব অভিযোগে জামিনের সুযোগ নেই। অপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত, বিচার ও আপিল প্রক্রিয়ায় কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮-এর বিধান প্রয়োগ করা হবে।

অধ্যাদেশে নিহত ও আহতদের শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে ‘জুলাই শহীদ’ ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে। আহতদের তিন বিভাগে ভাগ করা হয়েছে — অতি গুরুতর আহত, গুরুতর আহত এবং আহত।

সরকারের এই অধ্যাদেশ জুলাই মাসের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের কল্যাণ এবং পুনর্বাসনে কার্যকর আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।