ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নড়াইলে শিশু নুসরাত হত্যায় সৎ মায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নড়াইলে শিশু নুসরাত হত্যা মামলায় সৎ মা জোবাইদা বেগম (২১) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে বিচারক শারমিন নিগার এই রায় ঘোষণা করেন। আদেশের সময় আসামি জোবাইদা বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

জোবাইদা বেগম নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গিলাতলা গ্রামের সজীব কাজীর স্ত্রী। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত পিপি মো. আজিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সজীব কাজীর প্রথম স্ত্রী রূপা খাতুনের সঙ্গে ২০২০ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তাদের রয়েছে দুই সন্তান- ইয়াসিন (৫) এবং রোজা (নুসরাত)। বিবাহ বিচ্ছেদের পর ওই দুই শিশু তাদের দাদার সঙ্গে থাকতেন। পরে সজীব কাজী দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে জোবাইদা বেগমকে বিয়ে করেন।

২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে যখন ইয়াসিন ও রোজা খেলছিলো, তখন রোজা কান্না শুরু করে। বিষয়টি থামানোর জন্য জোবাইদা তাকে বাড়ির একটি কক্ষে নিয়ে যান এবং কান্না বন্ধ করতে চেষ্টা করেন। নির্যাতনের একপর্যায় রোজার নাক-মুখ চেপে ধরে সৎ মা, যার কারণে রোজা মারা যায়। এরপর শিশুটিকে একটি কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে ঘরের বারান্দায় রাখা খাটে রেখে আসেন।

রোজার দাদা বাড়ী ফিরে তাকে গোসল করানোর জন্য ডাকাডাকি করলে তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি। অবশেষে পরিবারের অন্য সদস্যরা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল পাঠায়।

সজীব কাজী এবং জোবাইদা বেগমকে প্রশ্নাবলের জন্য থানায় নেওয়া হয়। তবে সজীব কাজীর উপর কারও সন্দেহ না থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরবর্তী দিন শিশুর দাদা মো. খায়ের লোহাগড়া থানায় হত্যা মামলা করেন এবং জোবাইদা বেগমকে প্রধান আসামি করেন।

এই মামলায় আদালত সকল প্রমাণ বিশ্লেষণের পর, নুসরাত হত্যার দায়ে সৎ মা জোবাইদা বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার পাশাপাশি অর্থদণ্ডও আরোপ করেছেন।