ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

নবগঠিত ‘থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানি’র প্রথম প্রযোজনায় লোকজ পালা ‘মলুয়া’ মঞ্চে

নতুন নাট্যদল থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানি তাদের প্রথম প্রযোজনায় মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। দলটি প্রথমবারের মতো মঞ্চায়িত করতে যাচ্ছে প্রথম বাঙালি নারী কবি চন্দ্রাবতীর রচিত মৈমনসিংহ গীতিকার কালজয়ী পালা ‘মলুয়া’। নাটকটি দর্শক সমক্ষে প্রদর্শিত হবে ২৩ ও ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটারে। চিরচেনা লোকজ আখ্যানটির ভাষ্য-বয়ান ও সার্বিক নির্দেশনার দায়িত্বে আছেন তরুণ নির্দেশক সাইফুল জার্নাল।

‘মলুয়া’ প্রেম, আত্মমর্যাদা, সামাজিক বৈষম্য ও নারীর অদম্য শক্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত একটি যুগান্তরী ও আবেগঘন কাহিনি। শতাব্দীপ্রাচীন এই পালা নাট্যরীতি থেকে উঠে আসা আখ্যানকে থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানি আধুনিক নাট্যভাষা, দৃশ্যরীতি ও অভিনয় নির্মাণের ছাঁচে ঢেলে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। নাটকটি অতীত ও বর্তমানের সংলাপে問い তোলে—সময় বদলালেও নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সেই ধারায় কি সত্যিই কোনো গভীর পরিবর্তন এসেছে?

প্রযোজনাটি সম্পূর্ণভাবে সংগীতনির্ভর; পারফরম্যান্স মূলত একটি গানের দলকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে, যেখানে শিল্পীরা গানের পাশাপাশি অভিনয়ে সমানভাবে অংশ নেবেন। সাংগীতিক পরিবেশনায় নেতৃত্ব দেবেন গানের দল ‘সর্বনাম’ এবং বিভিন্ন নাট্যদলের অভিজ্ঞ অভিনেতা-অভিনেত্রী, চিত্রশিল্পী ও নাট্যপরামর্শকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে কাজটি গড়ে উঠেছে।

নাটকের কাস্টে আছেন হাসনাত রিপন, নুসরাত ইরা, সাইদুর শাহীন, শাহরিয়ার সজীব, প্রিয়ম মজুমদার, তাহাদিল আহমেদ, হুমায়রা স্নিগ্ধা, গোপি দেবনাথ, ফরহাদ শামীম, নানজীবা শৈলী, পি টি ফজল, মারিয়া ইয়াসমিন, ধ্রুব, সানজিদা চৌধুরী অরিন এবং উম্মে প্রেমা প্রমুখ।

নির্দেশক সাইফুল জার্নাল বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিউজিকাল পরিবেশনার আদি রীতি অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। পালা, পুঁথি বা গাজীর গান এক সময় ছিল মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ—কিন্তু পরিবেশ ও জীবনধারার পরিবর্তনে সেই চর্চা আজ প্রায় নিঃশেষের পথে; আর যা কিছুমাত্র বেঁচে আছে, তা অনেক ক্ষেত্রেই তার মূলরূপ হারিয়েছে। থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানি তাই বাংলার আদি লোক আঙ্গিকের মূল নির্যাস ধরে রেখে সেটিকে আধুনিক মঞ্চভাষায় উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে।

দলটির এই উদ্যোগ তাদের লোকচেতনাকে সচল রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্যগত ধারার সঙ্গে পরিচিত করানোর উদ্দেশ্য নিয়েও নেওয়া হয়েছে। প্রযোজক এবং শিল্পীগণ আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন সব শ্রেণি-পেশার দর্শককে আসার জন্য, যাতে লোকজ ধারার সরলতা ও শক্তিময় কণ্ঠস্বর আবারও মঞ্চে জীবন্ত হতে পারে।