ঢাকা | শনিবার | ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

নবম শ্রেণির ছাত্রীর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগ; দুইজন আটক

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে এক নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের নাম কোহিনূর আক্তার (নবম শ্রেণি)। পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুইজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তা বক্তব্য দিয়েছেন।

নিহত কোহিনূর তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা ফজলু মিয়া অতীতে মারা গেলে মা নাহার বেগম একার ওপর সংসার চালাচ্ছিলেন। বাড়িতে পড়ে থাকা কোহিনূরের বই-খাতা, আইডি কার্ড ও আলনায় গুছানো জামাকাপড়গুলো এখনো দেখলে মনে হয় সে বাড়িতে ফিরবে — কিন্তু কোহিনূর আর ফিরে আসেনি, জানান খুলে ক্যানন কাঁদছেন তার পরিবার।

পরিবার ও প্রতিবেশীরা বলেন, গত শনিবার বিকেলে কোহিনূর প্রাইভেট পড়তে বাড়ি থেকে বের হয়। রাত পর্যন্ত না ফেরায় তারা খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন রবিবার রাত প্রায় ৮টায় হামিদপল্লীর কাছে নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পোশাক দেখে কোহিনূরের মা ও এলাকার মানুষই মৃতদেহটি শনাক্ত করেন। স্থানীয়রা বলছেন মরদেহের দুই হাত-পা বাঁধা ছিল। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই নদীর স্রোতে মরদেহটি ভেসে যাওয়ায় তা উদ্ধার করা যায়নি।

নাহার বেগম সংবাদকর্মীদের কান্নায় ভেঙে পড়া কণ্ঠে বলেন, ‘‘কিছুদিন ধরেই মহরপুর গ্রামের অটোরিকশা চালক হৃদয় মিয়া (২০) আমার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি মেয়েকে লেখাপড়া করাতে চাই, তাই সম্মতি দিইনি। এরপর থেকেই আমার মেয়েকে ফুসলানোর চেষ্টা চলছিল বলে আমি ধারণা করি।’’ তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন বিকেলে কোহিনূর বাড়ি থেকে বের হয় এবং পরের দিন সন্ধ্যার আগে থেকে তার সন্ধান মেলেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক দু’জন হলেন মিঠামইন উপজেলা সদরের মহরপুর বেরীবাঁধ এলাকার মাঈন উদ্দিনের ছেলে হৃদয় মিয়া (২০) ও তার ফুফাতো বোনের জামাই ইমরান হোসেন (২৫)। ইমরান কুমিল্লা জেলার ভাঙ্গুড়া থানার আকুবপুর গ্রামের হান্দু মিয়ার ছেলে হলেও শ্বশুরবাড়িতেই দীর্ঘদিন বসবাস করছেন। পুলিশ একাধিক দিক তদন্ত করছে এবং Friday (৩ জুলাই) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে, জানিয়েছেন ওসি।

প্রতিবেশী ও সহপাঠীরা এককণ্ঠে বলছেন, কোহিনূর ছিল মেধাবী, ভদ্র ও মিশুক স্বভাবের এক ছেলেেমেয়ে। তার অকাল মৃত্যুকে এলাকায় কেউ মেনে নিচ্ছে না। তার কিছু সহপাঠী বললেন, ‘‘কোহিনূরের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত এখন আমাদের স্মৃতিতে ভেসে উঠছে; এমন হাসিখুশি মেয়েকে এভাবে হারাতে পারছি না।’’

গত বৃহস্পতিবার মিঠামইনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয়রা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তার বলেন, ‘‘কোহিনূর নিয়মিত ও শান্ত স্বভাবের ছাত্রী ছিল। এমন নৃশংস ঘটনা এ এলাকায় আগে হয়নি; দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর সাজা দিতে হবে।’’

স্থানীয় জেলে আল-আমিন ও অন্যান্যরা জানান, নদীতে মরদেহ দেখতে পেয়ে তারা মুহূর্তে থানায় খবর দেয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পুলিশ পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় মরদেহ স্রোতে ভেসে যায়। মিঠামইন থানা সূত্রে জানা যায়, মৃতদেহ উদ্ধারে ও ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চলছে। পুলিশ বলেছে, অভিযোগ ও প্রাপ্ত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। পরিবার-সম্পর্ক ও স্থানীয়রা ন্যায়বিচার প্রার্থনা করে আছেন।