ঢাকা | সোমবার | ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে গঠন করতে হবে যাতে সরকারপ্রধান জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন বা দূরে মনে না করেন। তিনি বলেন, একজন গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসা বজায় রাখা তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার। তাই নিরাপত্তার এমন ব্যবস্থা দরকার যাতে সাধারণ মানুষ নিজেকে সরকারপ্রধান থেকে আলাদা বা দূরে অনুভব না করে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পিজিআরের সদস্যরা সেনাবাহিনীর মধ্য থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ; এটি একটি বিশেষায়িত রেজিমেন্ট। পেশাদারিত্ব, আনুগত্য ও শৃঙ্খলার সমন্বয়ে তারা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেন—আর উপস্থিত কার্যকলাপেই পিজিআরের দক্ষতা ও একনিষ্ঠতা প্রতিফলিত হয় বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পিজিআরের দায়িত্বগুলোর চ্যালেঞ্জিং স্বভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়াও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা পিজিআরের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। এসব কার্যক্রমে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেও আপনাদের সততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যপরায়ণতা তাদের একটি সুসংগঠিত বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।

এই বছরের জন্য পিজিআরকে ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের মনোনয়ন পাওয়া সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এ সফলতার জন্য সদস্যদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, যেকোনো প্রতিকূলতায় তাদের কঠিন দায়িত্ববোধ প্রশংসনীয় ও গৌরবের বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দেশের সাহস ও গৌরবের প্রতীক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অসাধারণ ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসকে গৌরবময় করে তুলেছে এবং এটি সামরিক বাহিনীর ঐতিহ্যে অঙ্গিভূত। তিনি যোগ করেন, দেশপ্রেম ও কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম।

আধুনিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু রুটিন প্রতিরক্ষা নয়—বর্তমান সময়ে সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন হামলা ও তথ্যযুদ্ধের মতো বহুমাত্রিক হুমকির মোকাবিলায় বাহিনীকে প্রস্তুত রাখতে হবে। তাই পিজিআরসহ সব বাহিনীর জন্য আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি গ্রহণ জরুরি।

সরকার পিজিআর, এসএসএফসহ সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।

বক্তব্যের শুরুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে প্রথম ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ গঠিত হয়েছিল; পরে ১৯৭৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এ ইউনিটকে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ হিসেবে নামকরণ করেন। তারপর থেকে রেজিমেন্টটির কার্যক্রম আরও দৃঢ় ও গতিশীল হয়েছে।

তিনি যোগ করেন, দায়িত্ব পালনকালে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের ত্যাগ পিজিআরের সদস্যদের জন্য চলমান দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে বার্ষিকীর উদ্বোধন করেন এবং পিজিআর সদর দপ্তরে একটি চারা রোপণ করেন। একই সময়ে তিনি চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারকে খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছর ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিন স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করতে এই বিশেষায়িত বাহিনী গঠিত হয়। বার্ষিক দরবার ও সুসজ্জিত কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর এই দিনটি উদযাপন করে। পিজিআর মূলত সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও অন্যান্য সামরিক দায়িত্ব পালন করে।