ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ জয় করার উজ্জ্বল স্বপ্ন নিয়ে আগামীকাল মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশ দল। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে এই উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই, যা সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয় লাভ করে সিরিজে ভাল শুরু করেছিল। দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেলে সিরিজ তাদের পক্ষে নিশ্চিত হয়ে যাবে, কারণ সেখানে মাত্র এক ম্যাচ বাকি থাকবে।

যদি বাংলাদেশ আগামীকাল ম্যাচটি জিততে পারে, তবে এটি হবে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের ইতিহাস। সম্প্রতি শ্রীলংকার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় করার স্বাদ নেওয়া টাইগাররা পাকিস্তানের বিপক্ষে নতুন ইতিহাস তৈরি করতে মুখিয়ে রয়েছে।

মে মাসে পাকিস্তানের মাটিতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হবার মৃত্যু মেনে নিয়েছিল বাংলাদেশ। তাই ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে পরাজিত করে বড় জয় পাওয়া বাংলাদেশ দল এখন সিরিজ জয় নিশ্চিত করাই লক্ষ্য রেখেছে।

প্রথম ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের পেসাররা বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের ঝড়ো বোলিংয়ে মাত্র ১৯.৩ ওভারে ১১০ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল। এটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথমবার পাকিস্তানকে অলআউট করার কৃতিত্ব। তাসকিন ২২ রানে ৩ উইকেট ও মুস্তাফিজ ৬ রানে ২ উইকেট লাভ করেন। জবাবে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ৩৯ বলেই ৫৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন এবং দলের জয়ের ডাক দিয়েছিলেন ২৭ বল আগে।

মিরপুরের উইকেটে যেখানে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা বিপন্ন হয়েছিল, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানেরা পজেশন ধরে রেখে দৃঢ়তা দেখিয়েছিল বিশেষ করে ওপেনার পারভেজ। এই চতুর্থ জয় এনে দেয়া ইনিংসটি বাংলাদেশের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২৩ ম্যাচের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সবকটি জয় এসেছে মিরপুরের মাঠে। এই কারণে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও মিরপুর ভেন্যুতে জয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশ দারুণ আত্মবিশ্বাসী।

বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস বলেছেন, ‘আমরা মিরপুর উইকেট সম্পর্কে ভালো করে জানি, কারণ এখানে আমরা অনেক ম্যাচ খেলেছি। ব্যাট করার জন্য উইকেট কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও আমাদের প্রথম ম্যাচের ব্যাটিং খুবই শক্তিশালী ছিল।’

আগামীকাল দলের একাদশে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম, কারণ জয় পাওয়া একাদশ নিয়েই বাংলাদেশ খেলতে নামবে।

অন্য দিকে সিরিজে টিকে থাকার জন্য পাকিস্তানের উচিত দ্বিতীয় ম্যাচ জয় করাই। এই ম্যাচে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন বলেন, ‘আমরা ম্যাচ শুরুটা ভালো করেছি, কিন্তু উইকেট নিয়ে ভুল ধরণায় পড়েছি। আমাদের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত আজকের পরিণতি জন্য দায়ী।’ তিনি আরও বলেন, ‘বল লাফাতে শুরু করলে আমরা সঠিক মূল্যায়ন করতে পারিনি। ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলাটা তখন খুবই ঝুঁকি ছিল।’

বাংলাদেশ দল: লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ নাইম, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি অনিক, শামিম হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, মাহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

পাকিস্তান দল: সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, আহমেদ দানিয়াল, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, হাসান নাওয়াজ, হুসেন তালাত, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ আব্বাস আফ্রিদি, মোহাম্মদ হারিস (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নাওয়াজ, সাহিবজাদা ফারহান (উইকেটরক্ষক), সাইম আইয়ুব, সালমান মির্জা, সুফিয়ান মুকিম।