ঢাকা | মঙ্গলবার | ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধানমন্ত্রীর দশ গণমুখী উদ্যোগে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন

ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া দশটি গণমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ও স্পষ্ট নির্দেশনায় এই ঈদে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়বদ্ধতা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নীতিগত পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। তিনি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সব সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করার আহ্বান জানান, যাতে মানুষ নিজের কাছেরজনের পাশে থেকে আনন্দ ভাগ করে নিতে পারে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার আবার প্রমাণ করেছে, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা থাকলে সংকট পরিস্থিতিতেও স্বস্তি, শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্রীয় করে প্রধানমন্ত্রীর ১০টি গণমুখী উদ্যোগ তুলে ধরেন।

তিনি জানান, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ও জবাবদিহিহীনতার পরিস্থিতি মুহূর্তেই বদলে ফেলা সম্ভব না হলেও, এবারের ঈদে দেশের মানুষ আঁচ করতে পেরেছে রাষ্ট্রের আন্তরিক সদিচ্ছা ও জনকল্যাণমুখী প্রশাসনিক উদ্যোগ।

প্রথম উদ্যোগ ছিল—দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্ত ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। এবারের ঈদে সরকারি ছুটির সময় এক সপ্তাহ পর্যন্ত বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কমাতে নিরলস মনিটরিং ও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে যানজটের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে, গতি বা অসচেতনতার কারণে কিছু মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে টাঙ্গাইলে সংঘটিত দুর্ঘটনা ও ট্রেনের ধাক্কায় মা ও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এসব ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

দ্বিতীয় পদক্ষেপ ছিল—শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ। তৈরি পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য খাতে শ্রমিকদের ঈদের আগেই বেতন ও বোনাস তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে মহাসড়ক বা শিল্পাঞ্চলে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা না সৃষ্টি হয়। এর ফলে শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার ঈদ আনন্দের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরেছেন।

তৃতীয় উদ্যোগ ছিল—দেশি পশুর বাজার ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ। অবৈধ গবাদিপশুর প্রবেশ রোধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়, পশুর হাটগুলো সার্বক্ষণিক মনিটরিং হয়। দেশি গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় কোরবানির পশুর সংকট হয়নি। ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ বন্ধ থাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পেরেছেন। প্রকাশ্য রাস্তায় পশুর হাটের পরিবর্তে নির্দিষ্ট মাঠে হাট বসানোর ফলে যানজট কমে এবং প্রান্তিক খামারিরা ন্যায্য মূল্যে পশু বিক্রি করতে পেরেছেন।

চতুর্থ পদক্ষেপ ছিল—বর্জ্য অপসারণ ও নাগরিক সেবা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য পৌরসভায় ঈদের দিন থেকে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর ফলে ঈদের পরদিন অনেক এলাকায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে সরাসরি মাঠে এসে কাজের পরিদর্শন করেন, যা সরকারের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা শক্তিশালী করেছে। একপর্যায়ে, দায়িসংক্রান্ত কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়, যা সরকারের কঠোর নজরদারির প্রমাণ।

পঞ্চম পদক্ষেপ ছিল—গণপরিবহন শৃঙ্খলা ও বিশেষ সুবিধা। অতিরিক্ত ভাড়া বন্ধে কঠোর মনিটরিং চলে, রেল ও মেট্রোতে নারীদের জন্য আলাদা কোচ চালু ও প্রভিডেন্টিয়াম ভাড়া ছাড় দেওয়া হয়। নিয়মিত ভাড়ার তথ্য ব্রিস্ক্যন দেখানোর ব্যবস্থা থাকায় যাত্রীরা সুবিধা পান। নতুন স্থাপন করা লঞ্চঘাটগুলোতে অকার্যকর যানবাহন কমে গেছে, যাতে যাত্রা সহজ হয়।

ষষ্ঠ পদক্ষেপ ছিল—চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বিরোধী অভিযান। পশুবাহী ট্রাক ও হাটে চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ফলে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

সপ্তম উদ্যোগ ছিল—লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ। ঈদের ছুটিতে উৎপাদন সংক্রান্ত কষ্ট থাকলেও, ব্যাবস্থাপনায় সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। এই উদ্যোগের ফলে, তীব্র গরমে হলেও দেশের বেশিরভাগ এলাকায় লোডশেডিং কম হয়।

অষ্টম উদ্যোগ হলো—সামাজিক সংবেদনশীলতা ও জননিরাপত্তা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ঘটনাগুলোর ওপর নজর দেওয়া হয়। মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ সংরক্ষণ ও চিড়িয়াখানায় পাঠানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। ঈদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত থাকে।

নবম পদক্ষেপ ছিল—চামড়া শিল্পের দাম ও তদারকি। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে সরকার সতর্ক। চামড়া অবিক্রীত থাকার হার কমে এসেছে, ভবিষ্যতেও এর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেবে সরকার।

শেষ ও দশম উদ্যোগ ছিল—নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীলতা। বাজার তদারকির মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, যে কারণে উত্পাদন, আমদানিসহ সব দিক থেকে সমন্বয় করা হয়। এভাবে দীর্ঘ দিনের দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও দুর্বৃত্তায়ন মোকাবিলা করে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মাহদী আমিন সংক্ষেপে বলেন, সরকারি দপ্তর ও প্রশাসন দীর্ঘ সময়ের দূর্বলতা কাটিয়ে খুব দ্রুত সম্ভব নয়। তবে, জনগণ এবারের ঈদে বুঝতে পেরেছে যে, রাষ্ট্র তাদের প্রতি আন্তরিক ও প্রশাসন একটি দায়িত্বশীল জনসেবা মাধ্যম। তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন দিবস ও প্রচারনায় অসাধু বোঝাপড়া ও অপচয় হয়েছে। দায়িত্বশীল ও গণমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।

তিনি শেষ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সংগ্রামী আদর্শ ভিত্তিক আস্থাশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারলে, দীর্ঘকালীন বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা বজায় থাকবে। মানুষের বন্ধুত্ব ও আস্থা প্রয়োজন—এটাই দেশের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি।