ঢাকা | শুক্রবার | ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা: চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় শীঘ্রই খুলবে

বেইজিং, ২৫ জুন — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, চীনে বাংলাদেশি প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় শিগগিরই খুলছে। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে তিনি এ ঘোষণা দেন এবং চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা শিগগিরই চীনে আমাদের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ খুলতে যাচ্ছি। আমাদের উদ্দেশ্য খুবই পরিষ্কার — চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আসার জন্য অপেক্ষা করাতে নয়, বরং তাদের কাছাকাছি থেকে নিয়মিত যোগাযোগ করে আগ্রহকে দ্রুত সিদ্ধান্তে পরিণত করা। আমরা তাদেরকে সাহায্য করব যাতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।”

তারেক রহমান বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে বহু দশকের আস্থা ও বাস্তব সহযোগিতার বন্ধন হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “এই সম্পর্ক কূটনীতি থেকে উন্নয়নে, উন্নয়ন থেকে বাণিজ্যে এবং এখন আরও গভীর শিল্প অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে। আজ আমি সেই পরবর্তী অধ্যায়ের কথা বলছি।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং দেশটি ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত ও ভবিষ্যতের জন্য তৈরী। সরকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের একটি তীব্র কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে — নতুন ব্যবসার লাইসেন্স এখন থেকে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে অনুমোদিত হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বৈষম্যহীন আচরণ, আইন অনুসারে মূলধন ও লভ্যাংশ ফেরত এবং শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা আশা করতে পারবেন, তিনি যোগ করেন।

চীনা বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য চট্টগ্রামের আনোয়ারা এবং মংলায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল—দ্বিতীয় জোনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জায়গাগুলো লজিস্টিকস, বন্দরের সংযোগ, সেবা, কর্মী ও সরবরাহকারী নিশ্চিত করে একটি দীর্ঘমেয়াদি ইকোসিস্টেম তৈরি করবে।

নবায়নযোগ্য শক্তি, আইটি, উন্নত বস্ত্রশিল্প এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে বিশেষ নীতিগত সুবিধা ও প্রণোদনা দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ ফেরত নেওয়া ও আইনি সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন।”

সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বার্তা স্পষ্ট ছিল—বাংলাদেশ গতিশীলভাবে এগুচ্ছে এবং চীনা কোম্পানিগুলোকে দেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক বিস্ময়ের অংশীদার হিসেবে এগিয়ে আসার জন্য জোর আহ্বান জানানো হয়।