ঢাকা | রবিবার | ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

প্রবাসীদের এনআইডি আবেদন বাতিলের বিষয় উদ্ঘাটন

বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার জন্য করা আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরীক্ষায় যথাযথ না থাকায় ২২ হাজারের বেশি আবেদন বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ খবর শনিবার (২০ জুন) এনআইডি শাখার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে।

প্রবাসীদের আবেদনপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত এক রিপোর্টে জানানো হয়, ২০২৩ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮৯ হাজার ৮৯৭ জন আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ৫৩ হাজার ২২৯ জন biometric প্রদান সম্পন্ন করেছেন। তদন্তের পর ২ হাজার ৯৭৮ আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, এবং ৪৭ হাজার ১৩২ আবেদন সফলভাবে অনুমোদিত হয়েছে। বিপরীতে, ২২ হাজার ৩৫২ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, ১০ হাজার ১৪১ জনের আবেদন এখনো সার্ভারে তথ্য আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে, এবং ৩৭ হাজার ১৬ আবেদন সম্পূর্ণভাবে আপলোড করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়ে থাকেন, অনুমোদনপ্রাপ্ত এসব আবেদন থেকে ২২ হাজার ১৮টি এনআইডি প্রিন্ট করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে বিতরণের প্রক্রিয়া চলমান।

প্রবাসীদের জন্য এই কার্যক্রম বিভিন্ন দেশের ২৪টি স্টেশনে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবী ও দুবাই, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম, ইটালির রোম ও মিলান, কুয়েতের কুয়েত সিটি, কাতারের দোহা, মালয়েশিয়ার কুলালামপুর, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি, কানাডার অটোয়া ও টরেন্টো, জাপানের টোকিও, আমেরিকার নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লসঅ্যাঞ্জেলস, মালদ্বীপের মালে, ওমানের মাসকাট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া—মোট ১৪ দেশের ২৪টি স্থানে এই কর্মসূচি চলমান।

যদিও কিছু আবেদন বাতিল হলেও প্রবাসীরা পুনরায় আবেদন করতে পারবেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, যেখানে মোট ২৩ হাজার ৯৪০জন আবেদন করেছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে, যেখানে মাত্র ১২৬জন আবেদন জমা পড়েছে।

অতিরিক্তভাবে, দেশে বিদেশে অবস্থানকার প্রবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় চারটি তথ্য দাখিল বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে— অনলাইনে পূরণকৃত নিবন্ধন ফর্ম (ফরম-২(ক)), বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট বা মেয়াদহীন পাসপোর্ট বা এনআইডি দেখানো নাগরিকের প্রত্যায়ন, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের রঙিন ছবি— যা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের ডেক্সে জমা দিতে হবে। এই সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতেই প্রবাসীদের ভোটার তালিকা ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।