ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ফখরুলের অন্তর্বর্তী সরকারকে নির্বাচনের সময়সূচি পুনর্বিবেচনার আহ্বান

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন, এপ্রিল মাস নির্বাচন আয়োজনের জন্য উপযুক্ত সময় নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই বিষয়টি নতুন করে ভাববে।

আজ মঙ্গলবার গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফখরুল এই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও এপ্রিলের প্রথম দিকে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি এবং আশাবাদী যে সরকার এ বিষয়ে বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত নেবে।’

ফখরুল আগামী নির্বাচনের নির্ধারিত সময়কে তৎপরভাবে ভুল বলে দাবি করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘রমজান মাস চলাকালীন এবং ঈদ শেষে নির্বাচন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা জনসাধারণ এবং প্রার্থী উভয়ের জন্যই কঠিন। রমজান মাসে ইফতার পার্টির আয়োজন বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে, যা নির্বাচনী ব্যয়কে দ্বিগুণ বাড়াবে।’

তিনি তীব্র গরম, বৃষ্টি ও ঝড়ের আশঙ্কাও তুলে ধরে বলেন, ‘কর্মসূচি প্রধানত রাতের বেলা আয়োজন করতে হবে কারণ দিনের তাপদাহে মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারবে না।’

ফখরুল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে জাতীয় নির্বাচন সাধারণত ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয়ে এসেছে, দুটি ব্যতিক্রমী বিতর্কিত নির্বাচন ছাড়া। তিনি বলেন, ‘বিএনপি মনে করে ডিসেম্বর মাস নির্বাচন আয়োজনের জন্য আদর্শ সময় এবং এটি একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দল যেকোনো সময় নির্বাচন দিতে প্রস্তুত কারণ তারা নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যেতে চাই, বিদ্রোহী দল নই।’

ফখরুল বিএনপির সংস্কার বিরোধী অপপ্রচার নস্যাৎ করে বলেন, ‘এই ধরনের মিথ্যা প্রচারণা ঠিক নয়।’ তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি প্রথমে ‘‘ভিশন-২০৩০’’ কর্মসূচি নিয়ে এসেছিল এবং গণঅভ্যুত্থানের আগেই ৩১ দফা সংস্কারের খসড়া প্রকাশ করেছিল।

তিনি সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কর্মরতদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশে বিভাজন সৃষ্টি না করা হোক। আমরা সবাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ।’ ফখরুল সতর্ক করে বলেন, দেশের মধ্যে অযথা বিভেদের সুযোগ নিয়ে বিদেশি শক্তি ও ষড়যন্ত্রকারীরা দেশকে ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।