ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বরিশালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সংবর্ধনা, গ্রাফিতি উদ্বোধন ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী

বরিশালে নানা বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৫। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা ২০২৫’-এর অংশ হিসাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ, গ্রাফিতি উদ্বোধন, শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে কর্মসূচির শুরু হয় বাকেরগঞ্জ উপজেলার চড়াদী ইউনিয়নে। সকাল ৭টায় শহিদ মোঃ শাওন শিকদারের কবরে বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে সকল জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

পরবর্তী পর্যায়ে সকাল সাড়ে ৯টায় সিএনবি রোড সংলগ্ন আমতলা মোড়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে স্মরণ করে আঁকা একটি বিশেষ গ্রাফিতি উদ্বোধন করেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ রায়হান কাওছার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ছাড়াও অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ১০টায় বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ রায়হান কাওছার এবং সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ শরফুদ্দিন, বরিশালের পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দীনসহ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এর পর জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ ছাড়াও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, তাৎপর্য ও ইতিহাস নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ সংবর্ধনায় বরিশাল জেলার ৩০ জন শহিদ পরিবারের সদস্য এবং ৩৮৯ জন জুলাই যোদ্ধাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

সংবর্ধনার পর জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে। এই নানা আয়োজন বরিশালবাসীর মধ্যে ইতিহাসচেতনাকে আরও জাগ্রত করতে এবং মুক্তিযুদ্ধ-পশ্চিমবর্তী প্রজন্মকে দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্মৃতি সঠিকভাবে ধারণ করার প্রেরণা যোগায়।