ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে পূর্ণ প্রস্তুতির অভাব: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে অগ্রসর হলেও এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপটি মূলত গত সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিক হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, আগের সরকারের সময় প্রকাশিত জিডিপি, ব্যক্তিগত আয়, মাতৃস্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সূচকগুলো বাস্তবতার সাথে মেলেনি, যার ফলে উত্তরণের প্রক্রিয়া বাস্তবে সম্পূর্ণরূপে সফল হওয়া সম্ভব হয়নি।

উপদেষ্টা আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন। সভার শীর্ষক ছিল “বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্ধারণী: উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণ ও দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে সতর্ক পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন”।

তিনি জানান, যদিও বাংলাদেশের অবস্থা উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের মাপকাঠিতে ধারাবাহিকতা রাখলেও, বাস্তবায়নে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আগামী ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা লাভের সময় আসছে, তাই আগামী নির্বাচনী সরকারেরও সেজন্য সঠিক প্রস্তুতি নিতে হবে।

ফরিদা আখতার বলেন, এলডিসি উত্তরণের ফলে শুল্ক ও জিএসপি সুবিধার পরিবর্তন হবে, যা কোথায় সুবিধা দিবে এবং কোথায় ক্ষতি করবে তা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। একই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতার চাপ মোকাবিলায় দেশকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি বিশেষ করে উদ্বেগ ব্যক্ত করেন, বিদেশ থেকে স্বল্পমূল্যে গরুর মাংস আমদানি হলে দেশীয় গবাদিপশু খামারিরা, বিশেষত গরীব নারীরা যারা গবাদিপশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন, তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি আরও জানান, “আমরা বিদেশ থেকে মাংস আমদানি সীমিত করার জন্য কাজ করছি, কারণ আমদানিকৃত মাংসের মাধ্যমে জুনোটিক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, সাগরের সি উইড ও কুচিয়া রপ্তানির ব্যাপারে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বাণিজ্যিক স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য আমদানি হ্রাস ও দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্বও গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্কের জেনেভা ভিত্তিক লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ও রিসার্চার সানিয়া রিড স্মিথ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. জাহেদ মাসুদ, অ্যাডভোকেট তাসলিমা জাহানসহ অনেকে বক্তৃতা দেন। নাগরিক উদ্যোগের কো-অর্ডিনেটর বারাকাত উল্লাহ মারুফ সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।