ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বিএনপি চায় চলতি বছরের ডিসেম্বরেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক

জাতীয় নির্বাচন আগামী ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে বলে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া ভাষণে জানানো হয়েছে। তবে এই ঘোষণাটি সার্বিকভাবে জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। একই প্রেক্ষিতে, বিএনপি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব পুনরায় উত্থাপন করেছে।

শনিবার (৭ জুন) সকালে বিএনপি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘‘২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক ত্যাগের মাধ্যমে জনগণ গণতান্ত্রিক বিজয় অর্জন করেছে। তবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অযৌক্তিক বিলম্ব জনগণের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।’’

বিএনপি আরও উল্লেখ করেছে যে, রমজান মাস, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষা এবং আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে।

এর আগে, শুক্রবার (৬ জুন) রাতে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার ভোরে এই বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করার প্রবৃত্তি থাকা জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা অবজ্ঞা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘‘প্রায় দেড় দশক ধরে ভোটাধিকারের বাইরে রাখা হয়েছে দেশের জনগণকে। গুম, হত্যা, কারাবরণ, হামলা এবং নির্যাতনের মধ্যেও তারা ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।’’

বিএনপি নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবাধীন হয়ে নিজেদের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে জনগণের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, যদি নির্বাচনের প্রস্তুতি এপ্রিলের শুরুতে করা হয়, তা হলে আবহাওয়ার জটিলতা ও রমজান মাসের কারণে প্রচার-প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনের সময়সূচি পিছিয়ে দেওয়ার হস্তক্ষেপ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

তারা আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে এমন কোনও স্পষ্ট যুক্তি দেয়া হয়নি যে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করাটা সম্ভব নয়।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আরও জানানো হয়েছে, ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানানোথাকলেও ভাষণটি এক পর্যায়ে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে পরিণত হয়েছে। ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস নিজেই স্বীকার করেছেন যে, বন্দর ও করিডর সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি নির্দিষ্ট দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। এছাড়াও, ওই ভাষণে ব্যবহৃত কিছু শব্দ রাজনৈতিক সৌজন্যের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে বলে বিএনপির নেতারা তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।