ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মাগুরায় ৪ আগস্ট ছাত্র জনতার মিছিলে টিয়ারশেল-গুলির সামনে নারীর অগ্রণী নেতৃত্ব

জুলাই ও আগস্টের রক্তাক্ত আন্দোলনের সময় মাগুরার ফ্যাসিস্ট পুলিশ ও আওয়ামী শক্তির সন্ত্রাসের মুখোমুখি হয়ে ৪ আগস্ট রাজপথে জীবন বাজি রেখে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন নারী নেত্রী উমবিয়া কুলসুম উর্মি। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের দাবিতে নারীদের সংগঠিত করে তিনি একের পর এক মিছিল ও পিকেটিংয়ে ছাত্র জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন। মাগুরা জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ও সাবেক নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর উর্মি, যিনি ৬০ বছরের বেশি বয়সী, তার নিজের শারীরিক অবস্থা, বয়স কিংবা সন্তানদের কথা ভেবে পিছিয়ে না থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে সরাসরি আন্দোলনমুখী রাজপথে নেমে পড়েন। তার নেতৃত্ব দেওয়া মিছিল ও সংঘর্ষের ভিডিও ও ছবি সেই সজীব প্রমাণ।

উর্মি তার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকার যখন পুলিশ বাহিনী ও তার দোসরদের মাধ্যমে একের পর এক ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করছিল, আমি তখন ঘরে বসে থাকিনি। অন্যদের মতোই আমি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম রাজপথে। আমাদের একটাই দাবি ছিল – ‘হাসিনা হটাও, দেশ বাঁচাও’। ৪ আগষ্ট আমি আমার মহিলা কর্মীদের ফোন দিয়ে মিছিলের জন্য ডেকে আনি। সেদিন আমার সঙ্গে স্মৃতি, ইতি, সুমা, জান্নাত, বিউটি, পাপিয়া, শারমিন এবং আমার কলেজ পড়ুয়া নাতনি জান্নাতুল মনিরা শর্মীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। ছাত্র এবং সাধারণ জনতার সঙ্গে মিলে আমরা পারনান্দুয়ালী এলাকা দখল করি, পুলিশ ও আওয়ামী দলীয় সন্ত্রাসীদের হাত থেকে।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ঐ দিনের সংঘর্ষে আমার সামনের মহল্লার ছোট ভাই, ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান রাব্বি গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মারা যায়। সে আঘাত আজো আমার হৃদয় ভেদ করে। ওই গুলিতে আমি নিজেও মারা যেতে পারতাম। আরও এক যুবক, রায় নগরের ফরহাদ, সেদিন বিকেলে আমার চোখের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে জীবন হারান। চোখের সামনে দুই যুবকের মৃত্যুর দৃশ্য আমাকে গভীরভাবে আহত করেছিল, তখন ভাবছিলাম, আল্লাহ এই যন্ত্রণার শেষ কোথায়? কিন্তু আল্লাহ আমাদের নিরাশ করেননি। পরদিন ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকার পতিত হয়, যা ছিল আমাদের একটি বড় অর্জন এবং নতুন স্বাধীনতার সূচনা।

তবে হাসিনা পতনের পর দেশে যেখানে ব্যাপক পরিমাণে ভাঙচুর-লুটপাট শুরু হয়, মাগুরাতেও তা শুরু হলে জেলায় সিনিয়র নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে রাস্তায় নেমে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করতে সফল হই আমি। সবশেষে হাজারো শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা ফিরে পাই নতুন বাংলাদেশ।

আমার প্রত্যাশা একটি পূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের, যেখানে সব ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন এবং নিজ মত প্রকাশ করতে পারবেন।

দেশের আনাচ-কানাচে এমন অসংখ্য নারীর গল্প লুকিয়ে আছে যারা পুরুষদের মতো দেশের স্বাধীনতার জন্য সাহসীভাবে লড়াই করেছে, তবে তাদের অনেক কাহিনী আজও অধিকাংশের অজানা থেকে যায়।