হবিগঞ্জের মাধবপুরে প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট ছাড়াই উপজেলার প্রতিটি হাটবাজারের অলিতে-গলিতে শতশত অবৈধ ফার্মেসি গড়ে উঠেছে। প্রায় ১২ শ’র মতো এই ফার্মেসি লাইসেন্সবিহীন, যেখানে চিকিৎসকের প্রেস্ক্রিপশন ছাড়া উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ নিষিদ্ধ, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। প্রশাসনের তদারকিও প্রায় নেই বললেই চলে।
ফার্মেসিগুলো মূলত শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হয়, অথচ ঔষুধ মজুত, প্রদর্শন ও বিক্রি ১৯৪৬ সালের ড্রাগস রুলস অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এতে করে স্থানীয় মানুষ অপচিকিৎসার শিকার হয়ে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। মাধবপুরের ৬ লাখ বাসিন্দার স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাধবপুরে প্রায় দু’হাজারেরও বেশি অনুমোদনবিহীন ফার্মেসি রয়েছে, যাদের অধিকাংশে ফার্মাসিস্ট বা সনদপ্রাপ্ত কেমিস্ট নেই। অনেকেরই অভিজ্ঞতা মূলত অন্য ফার্মেসিতে কাজ করার মাধ্যমে অর্জিত হয়ে থাকে, যেখানে ধরনা নেই সঠিক প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্সের। এই ফার্মেসিগুলোতে নকল ও নিম্নমানের ঔষুধ বিক্রি হলে স্থানীয়রা অজানাই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
এছাড়া, অনেক ফার্মেসিতে অ্যালোপ্যাথিক ঔষুধের পাশাপাশি বৈদ্যকীয় ওষুধও অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ দোকানে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও লাইসেন্সের অভাব এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সিলেট ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয়ের ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক মো: শামীম হোসেন বলেন, মাধবপুরে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় লাইসেন্সকৃত ফার্মেসির সংখ্যা বেশি, প্রায় ৩৫০টির বেশি। লাইসেন্স দেওয়ার সময় ফার্মাসিস্টের বৈধ কাগজপত্র যাচাই করা হয়, তবে ফার্মাসিস্টদের মাঝে পরিবর্তনের কারণে কিছু ফার্মেসিতে সমস্যাও দেখা দেয়। তবে তারা নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যান।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ এবং মাঠ পর্যায়ের অবস্থান স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, এখানকার স্বাস্থ্য খাতের নিরাপত্তার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। অবৈধ ও অননুমোদিত ফার্মেসি বন্ধ করতে এবং প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট নিয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সুদ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।







