ঢাকা | রবিবার | ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেড় বছরে ৪ হাজার ৬০০-এরও বেশি অবৈধ ভারতীয় ফেরত: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ভারত সরকার জানিয়েছে, গত প্রায় দেড় বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ৪ হাজার ৬০০-এরও বেশি অবৈধভাবে অবস্থানকারী ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই তথ্য ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়ে দেন।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ হাজার ৭৬ জন ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে বহিষ্কারের মাধ্যমে মোট ৩ হাজার ৫৬৭ জনকে ভারতে পাঠানো হয়েছিল, যার ফলে মোট সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৬৪৩-এ দাঁড়ায় — যা ‘‘সাড়ে চার হাজারেরও বেশি’’ হিসেবে বিবেচিত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন, বিদেশে কেউ অবৈধভাবে অবস্থান করলে তাকে গ্রহণ করা দেশের দায়বদ্ধতা থাকে; তবু কাউকে ফেরত নেওয়ার আগে তার নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের সময় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র কড়া সমন্বয় করে কাজ করছে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যে, বহির্গমন বা অবৈধভাবে প্রবেশ, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেখানে অবস্থান অথবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় যাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়মমাফিক এগোয়। এই প্রক্রিয়ায় কাগজপত্র যাচাই, পরিচয় নিশ্চিতকরণ ও প্রাসঙ্গিক কনসুলার সহায়তা প্রদান করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু; বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব বিষয়কে বিবেচনায় রেখে ভারতীয় নাগরিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য।

আলাদা এক ঘটনায় যুক্তিসংগতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চ্যানেলে মানবপাচার রোধে তৎপরতা অব্যাহত আছে। মালয়েশিয়ায় অভিযান চালিয়ে পাচারের সময় ৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে ৯ জন দালালকে আটক করা হয়েছে। ভারতের বিদেশ নীতি ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কার্যক্রমকে এমন আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলোর সঙ্গে পৃথকভাবে দেখা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে অবৈধ থাকার ঘটনা প্রতিরোধ ও আক্রান্ত নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন চলবে। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়া মেনে, মানুষের কল্যাণ ও সচেতনতা বাড়িয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা।