ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সংবিধানে আদিবাসীদের স্বীকৃতি ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি উষাতন তালুকদারের আহ্বান

জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি ও রাঙামাটির সাবেক সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান এবং পার্বত্য শান্তি চুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। শনিবার (৯ আগস্ট) রাঙামাটি পৌরসভা চত্বরে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “পার্বত্যবাসীকে বাদ দিয়ে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হবে না। সরকারকে উদার মনোভাব প্রদর্শন করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ন্যায্য দাবি মেনে নিতে হবে।”

উষাতন তালুকদার আরও জানান, “বাংলাদেশে যত সরকারই এসেছে, কেউ আদিবাসীদের মৌলিক অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সম্প্রতি নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ আদিবাসীদের কথাও উল্লেখ করেছেন। এ কারণে অনেকে অসঙ্গতভাবে সমালোচনা করছেন এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলছেন। আদিবাসী শব্দের প্রতি এই ধরনের নেতিবাচক মনোভাব আমাদের মেনে নেওয়া যায় না। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে আদিবাসীদের সঠিক সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে, যা অনুসরণ করা জরুরি।”

তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা চাই আগামী সংবিধানে আদিবাসীদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া হোক। থাইল্যান্ড সম্প্রতি তাদের সংবিধানে আদিবাসীদের স্বীকৃতি দিয়েছে, বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এ পদক্ষেপ অপরিহার্য।”

বক্তৃতায় তিনি সংস্কার কমিশনে আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্বের অভাবের কথা তুলে ধরে বলেন, “নারী কমিশনে নিরূপা দেওয়ান ও ইলোরা দেওয়ান থাকলেও অন্য সংস্কার কমিশনগুলোতে আদিবাসীদের কোনো প্রতিনিধি নেই, যা সমগ্র প্রক্রিয়ায় হতাশাজনক।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামকে শত্রুভাবাপন্ন আচরণ করলে তা দেশের জন্য শুভ ফল বয়ে আনবে না।”

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে উষাতন তালুকদার বলেন, “আমাদের দেশের ভাগ্য নির্ধারণে এখন বিশ্বপরাশক্তিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে—আমেরিকা, চীন, রাশিয়া, ভারত এবং প্রতিবেশী মিয়ানমারের নজর রয়েছে আমাদের অঞ্চলে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা আন্তর্জাতিক প্রভাবের ওপর নির্ভর করছে।” তিনি জানিয়ে দেন, “নির্বাচন কমিশনে সিইসিকে নির্বাচন প্রস্তুতির জন্য চিঠি দেয়া হলেও মানুষের মধ্যে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এটি আমেরিকার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে, অন্যদিকে ভারতের প্রভাবও বাড়ছে।”

উষাতন তালুকদার অভিযোগ করেন, “কিছু তথাকথিত বিপ্লবী দল আদিবাসী স্বীকৃতি অস্বীকার করে জাতিসত্তার বিষয় বলে দাবী করছে। তারা জনসংহতি সমিতিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের লড়াই দীর্ঘদিন ধরে, অনেক আত্মত্যাগের মাধ্যমে হয়েছে। এম এন লারমা ও সন্তু লারমাসহ অন্য অনেকের ত্যাগকে উপেক্ষা করা যায় না।” তিনি বলেন, “পাহাড়ি ছাত্র পরিষদকে বিভক্ত করা, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে গাফিলতি এবং আন্দোলনকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র এখনও চলছে। কিন্তু জনগণ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে এগিয়ে আসবে।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য অঞ্চল সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন খীসা। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ শিশির কান্তি চাকমা, মানবাধিকার নেতা নিরূপা দেওয়ানসহ ওই অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠান শেষে রঙিন পোশাকে সজ্জিত বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়, যা রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিমন্যাশিয়াম মাঠে শেষ হয়।