ঢাকা | শুক্রবার | ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সরকারের পরিকল্পনা পাটজাত পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য একটি নিরলস পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) পিএলসির মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে, যাতে তারা বহুমুখী ও রপ্তানিযোগ্য পাটজাত পণ্য তৈরি করতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সরকারি দলের সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম কর্তৃক উপস্থাপিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন। তিনি জানান, পাটের কাঁচামাল ও উৎপাদনের মান উন্নীত করতে ঢাক ও খুলনায় আধুনিক পাটপণ্য পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পাট ও বীজ উৎপাদনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। এই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন হলে মানসম্পন্ন পাটজাত পণ্য রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাবে।

সরকার পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নানা ধরনের প্রोत्सাহনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে রপ্তানিকারকদের নগদ ভর্তুকি। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ১৩৮টি দেশে পাটজাত পণ্য রপ্তানি করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে চীন, ইরান, স্পেন, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, পাপুয়া নিউগিনি, তুরস্ক, মিশর, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, ভারত, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, লিবিয়া, ডেনমার্ক, ব্রাজিল, হল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, হাঙ্গেরি, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, চিলি, রোমানিয়া, কানাডা, পেরু, শ্রীলংকা, রাশিয়া, পোল্যান্ড, ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান, নেপাল, তিউনেশিয়া, আইভরি কোস্ট, থাইল্যান্ডসহ বহু দেশ।

মন্ত্রী জানান, দেশের বাহিরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলা, সেমিনার ও সভায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পাটজাত পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা কমানো হয়নি। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট, পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, এক্সপোর্ট ডকুমেন্টেশন, সার্টিফিকেশন, সচেতনতা কর্মশালা, ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মেলনসহ নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক বছর ২০২৪-২৫ এর মধ্যে পাটের রপ্তানি লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে ৭ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৯ টন, এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই পরিমাণ জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪ লাখ ৯ হাজার ৩৬৬ টনে পৌঁছানোর আশা করছে সরকার। এই সব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের পাটখাতে আরও বিপুল বিকাশ হবে বলে প্রত্যাশা করছে সরকার।