ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

মার্কিন অবরোধ ছাড়িয়ে হরমুজ পার হলো ইরানি সুপারট্যাংকার

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্রতর হলেও মার্কিন নৌ-অবরোধকে এড়িয়ে আরেকটি ইরানি সুপারট্যাংকার হরমুজ পর্বত পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কোনও চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর আমেরিকা আরও কড়া নীতি ঘোষণা করেছিল। সেই প্রেক্ষিতেই ঘোষিত এই নৌ-অবরোধ কার্যকরি বলেই দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সাম্প্রতিক গণনা ও জাহাজ চলাচলের ডেটার ভিত্তিতে দেখা গেছে, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিশালাকার একটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পার হয়ে উপসাগরের দিকে অগ্রসর হয়েছে।

আন্তর্জাতিক চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম শিপ ট্র্যাকার্সের তথ্য অনুযায়ী ‘আরএইচএন’ (RHN) নামের একটি ভিএলসিসি (VLCC) — প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনক্ষম এমন একটি সুপারট্যাংকার — পারস্য উপসাগরের জলসীমায় দেখা গেছে। কেবল একটি নির্দিষ্ট গন্তব্য মুহূর্তে নিশ্চিত করা না গেলেও তার গতিবিধি ঘন নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এর একটি দিন আগেই ‘অ্যালিসিয়া’ নামের আরেকটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে ইরাকের দিকে যাত্রা করেছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে এই দুটি জাহাজ ইরানি তেল পরিবহনে নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে, যা আমেরিকার অবরোধ কার্যকারিতা বিষয়ে প্রশ্ন তুলছে।

অপর দিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিল যে অবরোধ সোমবার থেকে কার্যকর ভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত কোনও জাহাজই তা ভেদ করতে পারেনি; এমনকি কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরানি বন্দরের দিকে যেতে বাধা দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেছে। এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছে তেহরানভিত্তিক ফার্স নিউজ এজেন্সি, যারা জানিয়েছে যে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত একটি সুপারট্যাংকার সফলভাবে হরমুজ পেরিয়ে ইরানের ইমাম খোমেইনি বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বাজার ও কৌশলগত মহলেও এই সংঘর্ষের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। আনুষ্ঠানিক কিছু শিথিলতার পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও কঠোর অবস্থানে ফিরে এসেছে এবং ইরানি তেল ক্রেতাদের ওপর ‘সেকেন্ডারি’ বা দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিচ্ছে। তেহরান কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিতও দিয়েছে—সূত্র বলছে, যদি সম্মানজনক কোনো চুক্তি করা যায়, ইরান ওমানি উপকূল দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার নীতির কারণে ইরানের তেল রপ্তানি কিছুটা ব্যাহত হলেও দেশের অর্থনীতি এখনই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে না। ইরান বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে এবং স্থলভাগে বড় পরিমাণ তেল মজুদ রাখার ক্ষমতা রয়েছে, যা কিছু সপ্তাহ রপ্তানি সচল রাখতে সাহায্য করতে পারে। কেপলার ও এলএসইজি’র তথ্যমতে চলতি এপ্রিল মাসে ইরান গড়ে দৈনিক প্রায় ১৭.১ লাখ ব্যারেল রপ্তানি করেছে—গত মাসের তুলনায় সামান্য কম হলেও অবরোধের মাঝেও বাণিজ্য চালু থাকার ইঙ্গিত দেয়।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং এ ধরনের পাল্টা চাল কয়েক বাদ দিয়েই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে নতুন ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও অঞ্চলীয় কূটনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।