ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ করল ৫ গোলের জয়

শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে শক্তিশালী চেষ্টা চালিয়ে শনিবার (১৯ জুলাই) সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে পঞ্চম ম্যাচে বাংলাদেশ স্বাগতিক হিসেবে মাঠে নামে। পয়েন্ট টেবিলের নীচে থাকা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে কড়া লড়াই শুরু হয়, যেখানে প্রথমার্ধে বাংলাদেশের মেয়েরা ২টি গোল করতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয়ার্ধে অবিরাম আক্রমণে লঙ্কান প্রতিরোধ ভেঙে দিয়ে আরও ৩ গোল করে দল। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ ৫-০ গোলের প্রভাবশালী জয় তুলে নেয়। পূজা দাস দাপট দেখিয়ে জোড়া গোল করেন।

আগের ম্যাচে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকেই ৯-১ গোলে হারিয়েছিল, তবে এই বারের লঙ্কানরা অনেক বেশি সংগঠিত এবং রক্ষণভাগে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। ফলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা অনেক সুযোগ নষ্ট করেন। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন কানন রানী বাহাদুর, যা ম্যাচে ব্যবধান বাড়ায়। ৩৮ মিনিটে সুরমা জান্নাতের শক্তিশালী শট পোস্টে লেগে ফিরে গেলেও প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে পূজা দাস দ্বিতীয় গোলটি করেন। তার পর পর বাইশ গজ দূর থেকে নেওয়া শটে তৃতীয় গোলও করেন পূজা। ৮৬ মিনিটে তৃষ্ণা রানী চতুর্থ গোল করে দলের জয় তুলে ধরেন। যোগ করা সময়ে অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারের পেনাল্টি গোলের ফলে স্কোর ৫-০ হয়।

বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার এই ম্যাচে পাঁচটি পরিবর্তন আনেন। মূল একাদশে ছিলেন না নিয়মিত খেলোয়াড় আফঈদা, স্বপ্না রানী, উমেহলা এবং মুনকি আক্তার। পরিবর্তিত দলগত তালিকায় প্রথমবারের মতো গোলরক্ষক হিসেবে সুযোগ পান ফেরদৌসী আক্তার। এছাড়াও রুপা আক্তার, পূজা দাস, নাদিয়া আক্তার ও কানন রানী স্থান পান। প্রথমার্ধে অধিনায়কত্ব করেন সুরমা জান্নাত।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আফঈদা, স্বপ্না রানী, উমেহলা ও মুনকি নামিয়ে নেওয়া হয় মাঠে, যদিও গোলের সংখ্যা বেশি বাড়েনি।

আজ বাংলাদেশের সমাপ্তি ম্যাচ নেপালের বিরুদ্ধে, যেখানে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নিশ্চিত হবে। হেরেও গেলে হেড টু হেড বা গোল পার্থক্য দেখে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হতে পারে। বর্তমানে নেপাল গোল পার্থক্যে এগিয়ে আছে, ভুটানকে ৮-০ গোলে হারিয়ে গোল পার্থক্য +২৬ তে রয়েছে তারা।

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৫-০ গোলের জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ নেপালের তুলনায় গোল পার্থক্য কমিয়ে এখন +২০ করেছে, ফলে ব্যবধান কমে ৬ গোল। এই উৎসাহী পারফরম্যান্স শিরোপা ধরে রাখতে বাংলাদেশের আশা আরও জোরালো করেছে।