নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো মেরামত করতে বরাদ্দ পাওয়া টাকা ঠিকমতো ব্যবহার করা হয়নি বলে জানা গেছে। কর্মকর্তারা বরাদ্দ টাকা ছাড়ের জন্য জোরপূর্বক উৎকোচ দাবি করায় প্রধান শিক্ষকরা প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ করতে পারছেন না, এমন অভিযোগ করা হয়েছে।
তথ্য মতে, সোনাইমুড়ী উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মোট ১২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪টি স্কুলে মেরামত কাজের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দটিতে বিদ্যালয়ের ভবন রঙ, পলেস্তার, দরজা-জানলার রং সহ আসবাবপত্র মেরামতসহ অন্যান্য কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, পোরকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লোর, গেট ও দরজা-জানলা রঙ করার জন্য ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৯০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক নাসিম আরা উপজেলার শিক্ষাকর্মীদের ধাক্কায় কাজ সম্পন্ন করেও বিল দাখিল করতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এছাড়া রথি-গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক কাজ ও মাঠ ভরাটের জন্য বরাদ্দ থাকা ৩৬ হাজার ৪১৬ টাকা ব্যবহার না করেও বিল জমা দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক মরিয়মের নেছা একইভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসে বিল পেতে চেষ্টায় রয়েছেন।
কাবিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ, ফ্লোর সংস্কার ও দরজা-জানলা রাঙ্গাতে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৮৫ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হলেও এখনও পর্যন্ত ঠিকাদারকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। নবাবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও মোট ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৮৭৩ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে, তবে কাজটি মেসার্স ইডিপিজ কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী মাহফুজ আলমের মাধ্যমে অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবে সম্পন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ স্কুলের প্রধান শিক্ষক লাকি সাহা করেন।
গান্ধী মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরী মজুমদার জানান, ৯৯ হাজার ২৫২ টাকা বরাদ্দের মধ্যে স্কুলের বাইরের রং পুনরায় করার এবং ১২টি চেয়ারের সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পেয়েছেন। তিনি অনলাইন মাধ্যমে চেয়ার অর্ডার দিয়েছেন কিন্তু এখনো রংয়ের কাজ শুরু হয়নি। উপজেলাস্থ শিক্ষা অফিসে বিল জমা দেওয়া হয়েছে ও অনুমোদন পেয়েছেন, তবে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি এখনও পাননি।
সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রকৌশলী ইমদাদুল হক জানান, ১৪টি স্কুলের মধ্যে ১০টি মেরামত কাজ উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগের তত্ত্বাবধানে চলছে, বাকি ৪টি কাজ পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষকরা দেখছেন। তবে বৃষ্টির কারণে কিছু কাজ যেমন পলেস্তার ও রং কার্যক্রম ধীরগতির মধ্যে রয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, তিনি এখনো সরেজমিনে সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেননি, তবে কাজ চালু রয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, কোনো স্কুল থেকে তিনি বা তাঁর অফিসের পক্ষ থেকে কোনো অনিয়মমূলক অর্থ দাবি করা হয় নি।
এসব অভিযোগ ও অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সমস্যার সমাধান হওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী ও শিক্ষানুরাগীরা।







