ঢাকা | রবিবার | ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

স্পেন ২-০ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে

বিশ্বকাপের উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে বর্তমান রানার্স-আপ ফ্রান্সকে ২-০ গোলে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে স্পেন। ডালাসের মাঠে পাওয়া এই জয়ে লুইস দে লা ফুয়েন্টের শিষ্যরা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান ডেম্বেলেদের তীব্র আক্রমণভাগকে কার্যকরভাবে থামিয়ে দেখিয়েছে তাদের কৌশলগত শক্তি ও রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা।

ম্যাচের ২২তম মিনিটে বক্সে লুকাস দিনিয়ে-এর করা ফাউলের ফলে রেফারি পেনাল্টি নির্দেশ করলে স্পেনকে নেতৃত্ব দেন মিকেল ওয়ারাছাবাল। প্রথমার্ধে ১-০ গোলের অগ্রগামের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দু’দলের চাপ কয়েক মুহূর্তের জন্য সমতলে উঠলেও দ্রুতই ব্যবধান বাড়ায় স্পেন। দানি অলমোর দেওয়া সূক্ষ্ম পাস থেকে ডানব্যাক পেদ্রো পোরো চমৎকার ফিনিশিং করে জালে বল জড়ান এবং স্কোর ২-০ হয়।

দুই গোল হজমের পর ফ্রান্স আক্রমণের খোঁজে চাপ বাড়ালেও স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ এবং পজিশনাল কন্ট্রোল তাদের প্রতি আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করতে বাধ্য করে। পুরো ম্যাচে ফরাসিরা মোট ১৪টি আক্রমণ করতে পারলেও গোলমুখে মাত্র চারটি শট নিতে সক্ষম হয়, যার মধ্যে উনাই সিমনকে বড় কোনো পরীক্ষায় ফেলার মতো সুযোগ ছিল সীমিত। বিপরীতে স্পেন সরল ও দ্রুত পাসিং, সঠিক সময়ের তিকিতাকা এবং বল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে।

এই জয়ের সঙ্গে স্পেন তাদের দীর্ঘ অপরাজিত যাত্রাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল—২৬ মার্চ, ২০২৪ সালে কলম্বিয়ার কাছে হারের পর থেকে তারা আর কোনো ম্যাচে পরাজিত হয়নি। ফরাস্সের বিরুদ্ধে মুহূর্তে পাওয়া এই সাফল্য তাদের অপরাজেয় স্ট্রিকে ৩০তম জয়ে পরিণত করেছে এবং তারা ইতালির ধারablanca ৩৭ ম্যাচের বিশ্বরেকর্ড স্পর্শের পথে রয়েছে। ফিফা ও উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী টাইব্রেকারে হাসিলে ফল সংগ্রহকে পরাজয়ের হিসেবে ধরা হয় না, তাই স্পেনের এই পতিতহীন ধারা অক্ষত থাকছে।

আগামী ১৯ জুলাই, রবিবার রাতে ফাইনালে আর্জেন্টিনা বা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লা রোজা; সেখানে জয় পেলে তারা এককভাবে ইতিহাসে সর্বোচ্চ অনবরত অপরাজিত রেকর্ডের মালিক হতে পারবে। ডালাসের ম্যাচ শেষে স্পেনের খেলোয়াড়রা উল্লসিত থাকলেও, তাদের দৃষ্টি এখন একমাত্র শিরোপা জয়ের দিকে।