ঢাকা | শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

হাউসে ইরান-বিষয়ক রেজল্যুশন পাস, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ইরানের বিরুদ্ধে একক সামরিক পদক্ষেপ বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সীমাবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে একটি রেজল্যুশন পাস হয়েছে, যা নিয়ে ট্রাম্প তীব্ৰ দুর্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। তিনি ওই রেজল্যুশনকে ‘নিরর্থক’ ও ‘দেশপ্রেমহীন’ আখ্যা দিয়েছেন এবং বিলের পক্ষে ভোট দেওয়া চারজন রিপাবলিকান সদস্যকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন।

ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “গতকাল হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে একটি নিরর্থক রেজল্যুশন পাস হয়েছে। চারজন বাজে রিপাবলিকান এমপি তাতে ভোট দিয়েছেন। এমন সময় আমার যুদ্ধ-সংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যখন আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচর্চার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।”

ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাবিত বিলটিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের অবস্থান অব্যাহত রাখতে হলে ট্রাম্প প্রশাসনকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে; অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত সেনাদের প্রত্যাহারের আহ্বান রাখা হয়েছে। হাউসের ভোটাভুটিতে বিলটি ২১৫-২০৮ ভোটে পাস হয়।

কংগ্রেস সদস্য গ্রেগরি মিকস রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণাসহ সামরিক ব্যবস্থায় কংগ্রেসের সম্মতি প্রয়োজন, এবং ইরান নিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করার আগে ট্রাম্প কংগ্রেসের সঙ্গে যথেষ্ট পরামর্শ করেননি বলে তিনি মনে করেন।

ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের ‘ট্রাম্প-বিদ্বেষী’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেছেন যে তারা দেশের সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি ওই চার রিপাবলিকান সদস্যকে ‘লোক দেখানো’ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বলে কটাক্ষ করে বলেছেন, তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত।

প্রেক্ষাপট: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের কারণে মার্কিন বাহিনী ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের অভিযান শুরু করে বলে রিপোর্ট করা হয়েছিল। প্রায় ৪০ দিনের নিম্নকোণীয় সংঘর্ষের পরে ৮ এপ্রিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। এরপরও স্থায়ী শান্তি চুক্তি বা আলোচনা নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে খবর আছে।

এ পর্যন্ত পাস হওয়া এই রেজল্যুশন কার্যকর হয়নি; এখন এটি সিনেটে পাঠানো হবে, যেখানে পুনরায় ভোট হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।