যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুদ বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) চারিচল্লিশ বছর—ঠিকভাবে বললে ৪৩ বছরের—সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। জ্বালানি বিভাগের প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, ৩ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে এই মজুদের পরিমাণ ৬২ লাখ ব্যারেল কমে ৩১৯.৫ মিলিয়ন ব্যারেল হয়েছে, যা পরিসংখ্যান অনুযায়ী এপ্রিল ১৯৮৩-এর পর আর দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হলে ওয়াশিংটন দ্রুত ভর্তুকি ও সরবরাহ সচল রাখতে সরকারি রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নীতির অংশ হিসাবে সরকারি স্টক থেকে মোট ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যা এসপিআরের হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে নির্দেশ করা হচ্ছে।
একই সময়ে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মজুদ মিলিয়ে সামগ্রিক তেলের ভাণ্ডারও কমে এসেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোট ভাণ্ডার ১২০.৭১ মিলিয়ন ব্যারেল কমে বর্তমানে ৭৩৪ মিলিয়ন ব্যারেল হয়েছে—এটি ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং স্বল্পমেয়াদে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী মাত্রায় কৌশলগত মজুদের এমন ক্ষয় পয়েন্টগুলো কীভাবে পূরণ করা হবে, তা জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতার পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্ব পাচ্ছে।








