বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের সময় গুমের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আরো ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার (৩ জুন) তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই অভিযোগ পেশ করেন।
অভিযোগে শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং পুলিশের বিশেষ শাখার সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামও নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন নিজে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে এই অভিযোগ জমা দেন। বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ অন্যান্য আইনজীবীরাও তার সঙ্গে ছিলেন।
২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তখন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ এবং বিএনপি করেছিল। সেই সময় তিনি বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এক মাস পর ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলং থেকে স্থানীয় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
ভারতে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে ঐ দেশটির ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয় এবং ২০১৫ সালের ২২ জুলাই নিম্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০১৮ সালে নিম্ন আদালত তাকে খালাস দিলেও ভারত সরকার আপিল করলে তাকে সেখানেই থাকতে হয়েছিল।
২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিলেও খালাস পান সালাহউদ্দিন এবং তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ৮ মে আসাম রাজ্য সরকারের কাছে তিনি ভ্রমণ অনুমোদনের জন্য আবেদন করেন। আবেদনপত্রে তিনি জানান, ২০১৫ সাল থেকে ভারতে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন এবং পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারেননি।
পরবর্তীতে, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ফলে আওয়ামী লীগ সরকার পতিত হওয়ার পর ৬ আগস্ট সালাহউদ্দিন দেশে ফেরার জন্য ভ্রমণ অনুমোদন পান এবং ১১ আগস্ট তিনি অবশেষে দেশে ফিরে আসেন। ওইদিন থেকে দেশবাসী ও পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পান তিনি।








