ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আমের পচন রোগে চাষি ও ব্যবসায়ীদের চিন্তায় অসীম বৃদ্ধি

মেহেরপুর জেলার আম চাষিরা চলতি মৌসুমের শেষ দিকে অজানা এক পচন রোগের কবলে পড়েছেন, যা তাদের জন্য গভীর উদ্বেগ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে। মৌসুমের শুরুতে এই রোগ দেখা না গেলেও, পরিপক্ব আম গাছ থেকে সংগ্রহের মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ডাঁটার দিক থেকে আম পচতে শুরু করছে, ফলে দ্রুত আম খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ছে। কৃষি বিভাগ ধারণা করছে, এই রোগটি ছত্রাকজনিত ‘স্টেম-এন্ড রট’। এর আগের বছরগুলিতে এমন কোনো বিরূপ অবস্থা এ অঞ্চলে দেখা যায়নি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মেহেরপুরে মোট ২৩৬৬ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয় এবং এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫,৫১০ মেট্রিক টন। তবে মাত্র এক হাজার মেট্রিক টন পচে গেলে বাজারদর অনুযায়ী প্রায় দেড়শ কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আম চাষিদের কথায়, গাছ থেকে সংগ্রহের পর দুই দিনের মধ্যেই অনেক আম পচে যায়, যা মূলত আবহাওয়ার বদল এবং সম্ভাব্য ভাইরাস বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের কারণে হতে পারে।

বাজার ও ঘরবাড়িতে আম কিনে নিয়ে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই তা পচতে শুরু করছে, ফলে অনেকেই আম ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। শহরের গড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা শিখা বেগম জানিয়েছেন, ‘‘বাজার থেকে হিমসাগর আম কিনেছিলাম, দু’দিনের মধ্যে সব পচে গিয়ে শেষপর্যন্ত ডাস্টবিনে ফেলতে হয়েছে।’’ অনেক ভোক্তাও অভিযোগ করেছেন, প্রিয়জনের কাছে পাঠানো আম কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পৌঁছার আগেই নষ্ট হয়ে গেছে।

গাংনী উপজেলার নিশিপুর গ্রামের আম বাগানের মালিক হোসেন আলী বলেন, ‘‘আম গাছে কালো আবরনের মতো ছোপ পড়ছে এবং পাড়া পড়ে দুই এক দিনের মধ্যে আম পচে যাচ্ছে। সব আম একসাথে পেকে যাওয়ায় আশা করেছিলাম কিছু বেশি দাম পাব, কিন্তু উল্টো সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।’’

আম ব্যবসায়ী সিহাব জানান, ‘‘বর্তমানে হিমসাগর, ন্যাংড়া ও আম্রপালি প্রজাতির আম বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু আম দ্রুত পচে যাচ্ছে ও লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। ২০ কেজি আমের মধ্যে দুই কেজি পচা আম বের হচ্ছে, যা ব্যবসা করা কঠিন করে তুলেছে।’’ আম ক্রেতা রাজিবুল হকও উল্লেখ করেছেন, ‘‘আমি তিন দিন আগে দশ কেজি আম কিনেছিলাম, কিন্তু অধিকাংশ আম পকে উঠার আগেই পচতে শুরু করেছে।’’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামসুল আলম বলেন, ‘‘আবহাওয়ার কারণে ছত্রাকবাহিত স্টেম-এন্ড রট রোগের প্রভাব থাকতে পারে। আম সংগ্রহের অন্তত ১৫ দিন আগে গাছে ওষুধ প্রয়োগ বন্ধ রাখা উচিত। তবে এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ না থাকার কারণে মাঠ পর্যায়ে কারিগরি টিম পাঠানো হয়নি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে পরবর্তী মৌসুমেও আম উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বৃদ্ধি, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা খুবই জরুরি। মেহেরপুরের হিমসাগর আম জিআই স্বীকৃত পণ্য হওয়ায়, সময়মত ব্যবস্থা না নিলে এটি আম রপ্তানির জন্য বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।