ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মুরগি ও ডিমের দাম কমলেও চালের বাজারে বৃদ্ধি

কোরবানি ঈদের পর বাজারে মুরগি এবং ডিমের দাম কিছুটা কমেছে, যা ক্রেতাদের জন্য সুখবর। সবজির দামও প্রায় আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চালের বাজারে উল্টোটা দেখা গেছে, চালের দাম বেড়ে গেছে।

গতকাল শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন পরিস্থিতি চোখে পড়েছে। বাজারে মোটা চালের (বিআর-২৮ ও পারিজা জাতের) খুচরা দাম প্রতি কেজিতে ৫৮ থেকে ৬২ টাকা পর্যন্ত গেছে। একই সঙ্গে সরু চালের মধ্যে জিরাশাইল ৭৪ থেকে ৭৮ টাকা, মিনিকেট ৭৬ থেকে ৮০ টাকা এবং কাটারিভোগ ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পুরান ঢাকার নয়াবাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী নিজাম জানান, ঈদের পর থেকে চালের দাম বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তার কথায়, “মিল মালিকরা বলছেন ধানের দাম বৃদ্ধির কারণে চালের দামও বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে এ দাম আরও বাড়তে পারে।”

অলিগলির ছোট মুদি দোকানগুলোর স্টকে বেশি পরিমাণ চাল থাকার কারণে সেগুলোতে দাম কিছুটা বেশি। বংশাল এলাকার মুদি দোকানদার মজিদ মিয়া জানিয়েছেন, “আমাদের বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয়, তাই চাল কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করি।”

চালের দাম বৃদ্ধির কারণে ক্রেতাদের মধ্যে কিছু অস্বস্তি দেখা গেলেও মুরগি, ডিম এবং সবজির দাম কমে বাজারের অস্থিরতা অনেকটা কমেছে। মুদি পণ্যের দামেও বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। পেঁয়াজ, আলু ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

ব্রয়লার মুরগির দাম গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতি কেজি ১৫০ টাকায় নেমে এসেছে, যেখানে ঈদের আগে তা ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। ডিমের দামও পতিত হয়েছে প্রতি ডজন ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের পর ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাজারে চাহিদা ঠিক মতো নেই, সে কারণেই দাম কমেছে।

কোরবানির ঈদের পর অনেক বাড়িতেই এখনও মাংস থাকার কারণে ডিম ও মুরগির চাহিদা কমেছে বলে বিভিন্ন ক্রেতা মন্তব্য করেছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, কিছুদিন পর চাহিদা বাড়লে মুরগির দাম পুনরায় বাড়তে পারে।

পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার ও নয়াবাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং সোনালি মুরগির দাম রয়েছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকার মধ্যে। মাছের বাজারে বড় ইলিশসহ অন্যান্য মাছের দাম তুলনামূলক বেশি অবস্থাতেই রয়েছে।

সবজির বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। পুঁইশাক, বেগুন, পেঁপে, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গে ও মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের আগে কেজি প্রতি ১০ থেকে ৪০ টাকা বেশি ছিল। বড় বাজারের তুলনায় ভ্রাম্যমাণ ও পথের দোকানে দাম আরও কম পাওয়া যাচ্ছে।

সর্বোপরি, ঈদের পর মুরগি ও ডিমের দাম কমলেও চালের বাজারে মূল্য বৃদ্ধির ফলে সাধারণ জনগণ কিছুটা চিন্তিত। তা সত্ত্বেও সবজির দাম নিম্নমুখী হওয়ায় সামগ্রিকভাবে বাজারে স্থিতিশীলতার ছোঁয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।