কোরবানি ঈদের পর বাজারে মুরগি ও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে, যা ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি বয়ে এনেছে। এক্ষেত্রে মুরগির দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে দেখা যাচ্ছে, যেখানে ঈদের আগে এটিকে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে ছিল। ডিমের দামও কমে প্রতি ডজন ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।
তবে, চালের বাজারে খুশির খবর আসেনি। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের পর চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটা চাল (বিআর-২৮, পারিজা) বর্তমানে মানভেদে ৫৮ থেকে ৬২ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। সরু চালের মধ্যে জিরাশাইল বিক্রি হচ্ছে ৭৪ থেকে ৭৮ টাকা, মিনিকেট ৭৬ থেকে ৮০ টাকা এবং কাটারিভোগ ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়।
পুরান ঢাকার নয়াবাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী নিজাম জানান, চালের দাম বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ধানের দাম বৃদ্ধির প্রভাব চালের দাম বাড়ানোর মূল কারণ। ভবিষ্যতে চালের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে অলিগলির ছোট মুদি দোকানগুলোতেও চালের দাম একটু বেশি দেখা যাচ্ছে। বংশাল এলাকার মুদি দোকানদার মজিদ মিয়া জানিয়েছেন, এই ধরনের দোকানে অনেক সময় ইস্তোকের পরিমাণ বেশি থাকে, তাই বেশি বিনিয়োগ করতে হয়, যার ফলে দাম কিছুটা বাড়তি।
সবজির বাজারে ঈদের পরেও দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিলো, যদিও কিছু সবজির দাম কমেছে। পুঁইশাক, বেগুন, পেঁপে, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গে ও মিষ্টি কুমড়া প্রভৃতি সবজি বর্তমানে প্রতি কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের আগের তুলনায় ১০ থেকে ৪০ টাকা কম।
মাছের বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকলেও ইলিশসহ অন্যান্য মাছের দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে। সাধারণ ক্রেতারা মনে করছেন, ঈদের পর বেশিরভাগ পরিবারের মাংসের সঞ্চয় থাকার কারণে মুরগি ও ডিমের চাহিদা কমে গিয়েছে, তবে সুযোগ এলেই দাম আবারও বাড়তে পারে।
মোটের উপর, মুরগি, ডিম ও সবজির দাম কিছুটা নেমে আসায় ক্রেতারা স্বস্তিবোধ করলেও চালের দাম বেড়ে যাওয়া তাদের মাঝে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বাজারের এই পরিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মধ্যবিত্তের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।








