ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে জামায়াতের প্রথম দিনের বৈঠক বর্জন ছিল প্রতীকী প্রতিবাদ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম দিনের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণ করেনি, যা দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ‘অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের শুরুতেই জামায়াত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের লন্ডন সফরের কিছু দিক নিয়ে তাদের আপত্তি থাকার কারণে তারা বৈঠকে অংশ নেয়নি। মার্কা সফরের বিষয়টি তাদের সর্বোচ্চ নির্বাহী পরিষদের অনুমোদিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।

তাহের বলেন, প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে পুরস্কার গ্রহণ এবং পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন, পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে, যা তারা স্বাগত জানায়। নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে অধ্যাপক ইউনূসের বক্তব্যের প্রতি তাদের আপত্তি না থাকলেও, তিনি টেলিভিশনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় এবং পরে সেটি নিয়ে আলোচনা না করার কারণে তারা অসন্তুষ্ট। এছাড়া একটি দলের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি প্রদান করে সাংবাদিক সম্মেলন করা নিয়েও জামায়াতের আপত্তি রয়েছে, যা তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরহীন এবং বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করেছেন।

বৈঠকে এসে জামায়াতের আপত্তি ও অসন্তোষ দূর করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দলটির আমীর ড. শফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ থাকবে। এ বিশ্বাসে জামায়াত দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে অংশ নিতে সম্মত হয়েছে। তাহের জানান, তারা দেশের স্বার্থে সকল প্রকার সহায়তা দিতে আগ্রহী, তবে কোনো অচলাবস্থা চাইছে না।

তাহের আরও বলেন, ক্ষমতার জন্য দলগুলোর দ্বন্দ্ব জাতীয় স্বার্থের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং দেশের কল্যাণেই সবকিছু বিবেচনা করা উচিত। তিনি আগামী নির্বাচনে যথাযথ কঠোরতা না নেওয়া হলে আবারও শেখ হাসিনার মতো একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি’ সম্পর্কে মন্তব্যকে বাস্তববুদ্ধির অভাব বলে উল্লেখ করে সংযতভাবে কথা বলার পরামর্শ দেন। নারীদের জন্য বরাদ্দ ১০০ আসন সংখ্যানুপাতিক হারে হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করার আগে কার্যকর সমাধান জরুরি বলে বলেন।

এদিকে, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী নীতিগত সহমত প্রকাশ করেছে। তাহের উল্লেখ করেন, এনসিসি একটি ভারসাম্যপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হবে, যেখানে থাকবে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। তবে তাঁরা প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান বিচারপতিকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চান না, কারণ এতে বিরোধ নিষ্পত্তির স্বাধীনতা সংকুচিত হবে। এছাড়া তিন বাহিনীর প্রধানদেরও কমিটির বাইরে রাখার প্রস্তাব তাদের।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে জামায়াতের এই অবস্থান দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।