ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে একমত বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূস একমত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ জুন) লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘সবাই আশা করেছিল এই বৈঠক একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা যে এই বৈঠক সত্যিই একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়েছে।’’ বৈঠকের পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি আরও জানান, তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে এপ্রিলের পরিবর্তে ভোটের তারিখ ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি এগিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কারণ নির্ধারিত এপ্রিল মাস ভোটের জন্য অনুকূল সময় নয়। অধ্যাপক ইউনূস এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হওয়ায় জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আশার সিঁড়ি খুলেছে।

ফখরুল প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘‘তাঁর বিচক্ষণতা ও উদ্যোগে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠে দেশের মানুষ নতুন দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।’’ বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, দুই নেতার মধ্যে আলোচনা আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে।

বৈঠকে নির্বাচনের আগে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হলেও মূল ফোকাস ছিল নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ। ফখরুল বলেন, ‘‘গত ভুল বোঝাবুঝি ভুলে গিয়ে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে সুষ্ঠু নির্বাচন অনিবার্য হয়ে উঠেছে।’’

বৈঠক শেষে তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, যারা গত ১৫ বছর ধরে গণতন্ত্র সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া তারেক রহমান দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

আগেই লন্ডনে ভেটকালে প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন, যেখানে রমজানের পূর্বে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব রাখা হয়। প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেছিলেন আগামী অর্থবছরের প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে, তবে যথাযথ প্রস্তুতি সম্পন্ন না হলে তা পরে এগিয়ে আসতে পারে।

বৈঠক লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রায় সাড়ে এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। বিএনপির শীর্ষ নেতারা ও উপদেষ্টার দল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন বার্তা হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে রাজনৈতিক আলোচনা ও সংঘর্ষ সমাধানের পথ প্রশস্ত হচ্ছে।