কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নদীভাঙন রোধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) উপজেলা শাখার সভাপতির পদস্থগিত করা হয়েছে। এই ঘটনা মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সব সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বিএনপির সরকারি ফেসবুক পেজে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে যে তিনি কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে স্থাপিত বেড়িবাঁধে রোপিত গাছ ব্যক্তিগত স্বার্থে কাটেন। এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার প্রাথমিক সদস্যপদ ও দলীয় সকল পদ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গাছ কাটার মূল লক্ষ্য ছিল নিজ বাড়ির পথে যাতায়াত সহজ করা, যা দলের নীতিমালা ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী। জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নদীভাঙন রোধে ওই বেড়িবাঁধে গাছ রোপণের উদ্যোগ নেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ গাছগুলোকে ভাঙন প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে মানতেন।স্থানীয়দের মতে, অভিযুক্ত সভাপতির বাড়িতে গেলে বাঁধের ওপর দিয়ে যেতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল ও অন্যান্য কারণে গত ৫ আগস্টের পর থেকে গাছ কাটা শুরু হয়। সর্বশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি ১০-১২টি গাছ একসঙ্গে কাটা হয়। গাছগুলো প্রত্যেকের বাজারমূল্য প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। গাছ *ধাপে ধাপে কাটার জন্য বৈদ্যুতিক করাতের ব্যবহা*র হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।মিঠামইন উপজেলা বিএনপির স্থগিত সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, তিনি গাছ কাটেননি। তিনি জানান, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মিঠামইন থানার উপপরিদর্শক আল মোমেন জানান, বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট অফিসাররা বাদী হয়ে আঙ্গুর মিয়াসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে আরও দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।








