ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জীবদ্দশায় এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারেন: জামায়াত

জামায়াতে Islami মনে করে একজন ব্যক্তি জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উচিত নয়। রবিবার (২২ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা শেষ হওয়ার পর জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের এই বক্তব্য দেন।

তিনি জানান, ‘‘বার ও মেয়াদ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে আমি প্রস্তাব দিয়েছি, একজন ব্যক্তি জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না।’’

এই বিষয়ে সকলের ঐক্যমত্য কামনা করে তিনি বলেন, ‘‘বার ও মেয়াদের বিষয়টিকে জটিলভাবে না দেখে, আমরা প্রায় তিনটি দল ছাড়া সবাই এই ব্যাপারে একমত হয়েছি।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘অর্থাৎ, একটি ব্যক্তি তার জীবনকালে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন, তা কতবারই হোক না কেন। এটা দেশের মঙ্গল এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা। আমি বিশ্বাস করি এটাই অবশ্যই আমাদের নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।’’

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ‘‘এ ধরনের নজির অনেক দেশে রয়েছে এবং বাংলাদেশেও এটি খুব প্রয়োজনীয়। এ বিষয়ে আমরা প্রায় সব দলেই সমর্থন পেয়েছি। বিকালে আরও কিছু বিষয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।’’

বৈঠকে আলী রীয়াজ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান বিচারপতি এমদাদুল হক এবং দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান।

এর আগে, ১৭ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ের অসমাপ্ত আলোচনায় জামায়াতে Islami অংশ নেয়নি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করার পর পরদিন তারা আলোচনায় যোগ দিয়েছিল।

এদিকে, সংসদের উচ্চ আসনের বণ্টন, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা এখনও সম্পূর্ণ ফলপ্রসূ হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার জন্য এনসিসি গঠন করার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে একমত হয়নি গত সপ্তাহের চার দিনের আলোচনায়। এই পর্যায়ে ঐকমত্যের সংজ্ঞা নিয়েও রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কমিশন এ ব্যাপারে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।