সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিয়ে রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই। সরকারি ওষুধ পাওয়ার জন্য টাকা দিতে হয়, পরীক্ষার জন্য প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো হয়, কমিশন বাণিজ্য এবং হুইলচেয়ার ব্যবস্থাপনায় অবনতির অভিযোগ মোকাবেলা করছে এই হাসপাতাল। এর সাথে কোন ওষুধ সাপ্লাই না পাওয়া কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগীদের দেওয়া দরকারি চিকিৎসায় বাধা সৃষ্টি করছে।
এই অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ আরেকবার সামনে এসেছে সাম্প্রতিক ঘটনায়। সেনাবাহিনীর একটি পরিচ্ছন্নদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে মেডিসিন বিভাগের ওয়ার্ড বয় হরষিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকার মোহাম্মদ আলী জানান, তার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি হলে ওষুধের সমস্যা হয়। ডাক্তার তাকে প্রেসক্রিপশন দিয়ে জানান কিছু ওষুধ হাসপাতালের স্টকে নেই, বাহির থেকে আনতে হবে। কিন্তু এই অবস্থায় একই ওষুধ হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় থেকে কম দামে কিনতে বাধ্য হন তিনি। মোহাম্মদ আলী আরও জানিয়েছেন, ওষুধ সেবনের পর তার স্ত্রীর শরীরে জ্বালা ও জ্বর দেখা দেয় যা পরবর্তীতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহারের কারণে হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ওয়ার্ড বয় হরষিত নিজেও স্বীকার করেছেন যে, তিনি ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার করা কিছু ওষুধ কয়েক মাস ধরে বিক্রি করে আসছিলেন এবং এসব ওষুধের মধ্যে কিছু এখনো মেয়াদোত্তীর্ণ।
অন্য রোগীদের কাছ থেকেও অভিযোগ এসেছে, এখানে স্বাস্থ্য সেবার জন্য টাকা ব্যতীত কিছুই সম্ভব হয় না। রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে শুরু করে হুইলচেয়ারে টয়লেট নেওয়া পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সার্ভিসের জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় হয়। এটা কিভাবে সরকারি হাসপাতাল হতে পারে, এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল জানান, তারা হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার এই অসঙ্গতির বিষয় নিয়ে মিটিং করেছেন। তিনি বলেছেন, হাসপাতালের ওষুধ অবশ্যই সঠিক উপায়ে সরবরাহ করা উচিত এবং যে কেউ দুর্নীতি বা অনিয়মে অভিযুক্ত হলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতে খোদা বলেন, ওষুধ বিক্রির ঘটনাটি তার অজানা। তিনি বলেন, রোগীদের অভিযোগ আনা হলে অবিলম্বে দায়িত্ববাহী ব্যক্তিকে প্রত্যাহার করা হবে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল না হলেও রোগীরা সুষ্ঠু ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসার প্রত্যাশায় রয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত শীঘ্রই এই অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং রোগীদের স্বাচ্ছন্দ্যময় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।








