উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক রোমাঞ্চকর নাইট শেষে ৯ বছর পর সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলো অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে বার্সেলোনার কাছে ২-১ পরাজিত হলেও নির্দেশিত সময় মিলিয়ে অ্যাথলেটিকো অনায়াসেই ৩-২ অগ্রগামিতায় সেমিফাইনালে উঠেছে এবং দীর্ঘকালীন শুষ্ক সময় ছাপিয়ে নিজেদের পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে ডিয়েগো সিমিওনের দলটি। অপরদিকে দারুণ শুরু করেও শেষ অবধি কামব্যাকে ব্যর্থ হয়ে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বার্সেলোনাকে।
ম্যাচ শুরুতেই বার্সেলোনার আগ্রাসী মনোভাব চোখে পড়ার মত ছিল। গত সপ্তাহে নিজেদের মাঠে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা বার্সা ফেরার বদলা নিতে আগ্রহী ছিল এবং ম্যাচের মাত্র ২৪ মিনিটের মধ্যে দুইবার গোল করে সমতা ফিরিয়ে আনে তারা। তরুণ ল্যামিন ইয়ামাল এবং অভিজ্ঞ ফেরান তোরেসের সফল শটের ফলে কাতালান সমর্থকরাও স্বপ্ন দেখতে শুরু করে যে ম্যাচ ঘুরে যেতে পারে।
তবে প্রথমার্ধের শেষের দিকে অ্যাথলেটিকো আবারই দম বুঝিয়ে নেয়। আদেমোলা লুকমানের এক চমৎকার ব্যক্তিগত প্রয়াসে গোল হলে মাদ্রিদ দলটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু পায় এবং সামগ্রিক লিড আবার নিজেদের কাঁধে তুলে নেয়। ওই গোল তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফের নিজেদের হাতে রাখতে সহায়তা করে।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনা বারবার আক্রমণ করলেও অ্যাথলেটিকোর রক্ষণ কাঠামো টিকে থাকার পাশাপাশি ধীরে ধীরে ম্যাচে নিয়ন্ত্রন ফিরে পান সিমিওনের শিষ্যরা। গোল করার সবচেয়ে বড় সুযোগটিই শেষে বার্সার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে — ম্যাচের ৭৯ মিনিটে অ্যালেক্সান্ডার সরলথকে স্পষ্ট জেতার সুযোগ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। একেবারে ১০ জনে নেমে যাওয়ায় বার্সার প্রত্যাবর্তনের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়।
বাকী সময় অ্যাথলেটিকো দৃঢ় প্রতিরক্ষায় বসে রাতের পরিণতি ধরে রাখতে সমর্থ হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। এই সাফল্য তাদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ; ক্লাবটি সর্বশেষ ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে খেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ পর্যায়ের স্থিতি ফিরিয়ে আনতে কাঠামোগত সংগ্রাম চালিয়ে আসছিল। এবার সেই শূন্যস্থান কিছুটা ভরাট হলো। ২০১৪ ও ২০১৬ সালে রানার্সআপ হওয়া দলের লক্ষ্য এখন শিরোপা পুনরুদ্ধার—এ দিকে আরও এক ধাপ এগোল তারা।
সেমিফাইনালে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ হবে আর্সেনাল না স্পোর্টিং লিসবন—তার ঠিক কি হবে তা বুধবার এমিরেটসে অনুষ্ঠিত ফিরতি লেগের পর স্পষ্ট হবে। প্রথম লেগে পর্তুগাল মাটিতে আর্সেনাল ১-০ অগ্রগামী।
এদিন রাতে আরেক কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারিস সেন্ট জার্মে (পিএসজি) লিভারপুলকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে, যা এই মরসুমের ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বকে আরও নাটকীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে। অ্যাথলেটিকোর জন্য এখন পর্যায়ক্রমে কঠিন প্রতিপক্ষ মোকাবেলার সময়; সিমিওনের দল কি আবারও ফাইনালের স্বর্গ উন্মোচন করতে পারবে, সেটা দেখারই থাকবে মুখোমুখি উত্তেজনা।








