বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর প্রথম প্রভাতে টালিউডে নতুন উৎসবের ধারণা বারে বারে ভাসলো—পরিচালক জুটি নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে বানতলায় ক্ল্যাপস্টিকের শব্দে শুটিং শুরু হলো তাদের প্রতীক্ষিত নতুন ছবি ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’। রাজ্যের ঘরে ঘরে বর্ষবরণের উৎসব চলতেও, শিল্পীদের এই কাজের শুরু যেন স্পষ্ট করে দিল যে পরবর্তী বড় প্রদর্শনী আগামিই ঘোষণা করা হলো—আসন্ন দুর্গাপূজায় বক্স অফিসে বড় হাতের উপস্থিতি দিতে তারা ব্যস্ত।
গত বছরের ২০২৪ সালের ‘বহুরূপী’ কাহিনির অভাবনীয় সফলতার পর উইন্ডোজ প্রোডাকশন এবার গল্প এবং অ্যাকশন দুটোই বহু বেশি মাত্রায় প্রস্তুত করছে। শুটিংয়ের প্রথম দিনটি ছিল উৎসবমুখর; পহেলা বৈশাখের সকালে পরিচালকের ডাকে বানতলায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত, কৌশানী মুখোপাধ্যায় ও প্রদীপ ভট্টাচার্য। দর্শকমহলের কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে প্রাধান্য পাচ্ছেন যিশু—তিনি ফের নন্দিতা-শিবপ্রসাদ জুটির ফ্রেমে ফিরেছেন এবং আগের কিস্তির জনপ্রিয় দ্বৈরথের পর এবার শিবপ্রসাদের বহুল আলোচিত ‘বিক্রম’ চরিত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন। নির্মাতারা যদিও যিশুর চরিত্র সম্পর্কে বিস্তারিত এখনও গোপন রেখেছেন, তবু যিশু বনাম শিবপ্রসাদ—এই নতুন সমীকরণই দর্শকদের জন্য বড় চমক হতে যাচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই ছবিতে আরও একটি বড় সংযোজন হিসেবে আছেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার; তিনি নন্দিতা-শিবপ্রসাদের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করছেন। শুটিংয়ের প্রথম দিনে তিনি উপস্থিত না থাকলেও জানা গেছে কয়েক দিনের মধ্যেই ইউনিটে যোগ দেবেন। অন্যদিকে কৌশানী-শিবপ্রসাদ জুটির কেমিস্ট্রি আগের কিস্তিতে দর্শকপ্রিয় হয়ে উঠেছিল—তাই তাদের পুনরাবৃত্তি নতুন অধ্যায়ে আশা বাড়াচ্ছে। কৌশানী জানান, এই কাজটি তাঁর জন্য একটি নতুন ও শক্তিশালী অভিজ্ঞতা হবে এবং সে উত্তেজনায়েই ফিরেছেন।
নির্মাতারা বলছেন, ২০২৪ সালের ‘বহুরূপী’ ছিল এক ধরণের গেমচেঞ্জার—সেটি শুধু বাংলার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়নি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চেও প্রশংসা পেয়েছিল। সেই সাফল্যের রেশ ধরে এবার ‘দ্য গোল্ডেন ডাকু’-তে গল্পের পরিধি বাড়ানো হয়েছে এবং অ্যাকশনের মাত্রাও বহুগুণ বাড়ানো পরিকল্পনা করা হয়েছে। দর্শকরা যাতে বেশি বড় স্ক্রিনে উচ্চ মানের বিনোদন পায়—তাই এই কাজে জোর দেওয়া হচ্ছে।
সংগীত বিভাগেও দর্শকদের জন্য চমকের অপেক্ষা থাকবে। ছবিতে অংশ নিচ্ছেন ননীচোরা দাস (বাউল), বনি চক্রবর্তী, অনুপম রায়, অর্ণব দত্ত এবং শিলাজিৎ মজুমদার—এরা সবাই দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীতশিল্পী; তাদের গাওয়া গান ছবির আরেক বড় সম্পদ হতে চলেছে। নির্মাণটিকে আরও প্রাণবন্ত করার জন্য সঙ্গীত ও সাউন্ডস্কেপে বিশেষ মনোযোগ দেয়া হয়েছে।
টালিউডের বিশিষ্ট পরিচালক ও অভিনেতা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় নতুন এই যাত্রায় শুভকামনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিবপ্রসাদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং লিখেছেন, “জানলা দিয়ে আবারও অফুরান আলো বাতাস আসুক।” শিবপ্রসাদও কৌশিকের সেই আশীর্বাদকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করে কাজে ঝাঁপ দেওয়ার কথা বলেছেন।
উইন্ডোজ প্রোডাকশন দীর্ঘ ২৫ বছরের ধারাবাহিক সফলতা ও মাইলফলক স্পর্শ করেছে; চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করেন ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’ সেই মুকুটে একটি নতুন পালক যোগ করবে। সব মিলিয়ে আগামী দুর্গাপূজায় রুপালি পর্দায় একটি হাই-ভোল্টেজ ড্রামা দেখার অপেক্ষায় এখনই বাংলা সিনেমাপ্রেমীরা।








