ঢাকা | মঙ্গলবার | ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কানাই দাস বাউল আর নেই: ‘রইদ’–এ রাখা গানই তাঁর শেষ প্লেব্যাক

বাউল সঙ্গীত ও লোকজ দর্শনের এক স্বকীয় কণ্ঠ আজ স্তব্ধ হয়ে গেল। পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত বাউল শিল্পী কানাই দাস বাউল দীর্ঘ রোগের পর ১৮ এপ্রিল না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। দৃষ্টি হারালেও আত্মার আলোর সুরে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে মানুষের মনের কথা তিনি বাজাতেন—এভাবেই বাউল পরম্পরায় তাঁর বিচরণ ছিল অনবদ্য।

জীবনভরে একতারা হাতে মেলামেলা, আখড়া ও উৎসবে তাঁর গানের আধ্যাত্মিকতা শ্রোতাদের মুগ্ধ করত। ‘‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’’ কিংবা ‘‘কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলাম না ব্যাপার’’—এরকম কালজয়ী মানুষের গানগুলোর মাধ্যমে তিনি মানবিকতা ও জীবনের গভীর দর্শন গান করেছেন। দৃষ্টিহীনতা তাঁকে শারীরিকভাবে সীমাবদ্ধ করতে পারেনি; তাঁর অন্তর্দৃষ্টি ও সুরволেই মানুষ খুঁজে পেত শান্তি।

নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের আসন্ন চলচ্চিত্র ‘রইদ’—এ রাখাও রয়েছে তাঁর এক অমূল্য উপহার। গত বছর ছবিটির সংগীত কাজের সময় কানাই দাসকে নিয়ে একটি বিশেষ গান রেকর্ড করা হয়। পরিচালক জানাচ্ছেন, যখন তিনি জানতে চেয়েছিলেন শিল্পী আগে কখনও সিনেমায় গেয়েছেন কি না, কানাই দাস বিন্দুমাত্র আবেগহীনভাবে বলে উঠেছিলেন, ‘কেউ তো ডাকেনি!’—তবে এবার তিনি সিনেমার জন্য একটি গান রেকর্ড করেছিলেন, যা শোনার জন্য তিনি গভীর আগ্রহ প্রদর্শন করেছিলেন।

পরিচালক গভীর আফসোসে বলেন, গানটির চূড়ান্ত কাজও সম্পন্ন হয়েছিল, কিন্তু তা প্রকাশের আগেই শিল্পীর চলে যাওয়া সবার জন্য বিষণ্ণ এক মুহূর্ত হয়ে রইল। মেজবাউর রহমান সুমনের কাজের সঙ্গে বাউল দর্শনের ঘন সম্পর্ক রয়েছে—এর আগেও তাঁর হিট সিনেমা ‘হাওয়া’তে বাসুদেব দাস বাউলের কণ্ঠে থাকা গান দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ‘রইদ’–এ তিনি কানাই দাসের কণ্ঠের সরল ও মেঠো সুরকে আরও বিস্তৃত শ্রোতাপরিসরে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন।

সিনেমার প্রথম গান ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে এবং শ্রোতারা তা গ্রহণ করেছেন। গানটির কথা ও সুর করেছেন সহজিয়া ব্যান্ডের রাজীব আহমেদ রাজু, আর সংগীত পরিচালনায় ছিলেন রাশীদ শরীফ শোয়েব। ছবিটির কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, নাজিফা তুষি ও গাজী রাকায়েত—তারা সবাই মিলে ‘রইদ’কে একটি শক্তিশালী লোকদৃশ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন।

কানাই দাসের শেষ এই প্লেব্যাক বাংলা লোকসংগীতের ইতিহাসে একটি আবেগঘন দলিল হয়ে থাকবে। তাঁর গাওয়া সেই গান দ্রুতই শ্রোতাদের সামনে আসবে বলে নির্মাতা নিশ্চিত করেছেন। সব মিলিয়ে ‘রইদ’ শুধু একটি সিনেমা নয়—এটি কানাই দাস বাউলের স্মৃতি ও বাউল ঐতিহ্যের প্রতি একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি।