ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নওগাঁয় সম্পত্তির লোভে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা, তিনজন গ্রেপ্তার

নওগাঁর নিয়ামতপুরে সম্পত্তির বিরোধের জেরে একই পরিবারের চার সদস্যকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম পত্রিকাগিকে বলেন, এ ঘটনায় নিহত হাবিবুর রহমানের দুই ভাগনে ও ভনদর এক দুলাভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের পরিচয় জানা গেছে— হাবিবুরের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম (৩০), তার ছেলে শাহিন হোসেন ও ভগ্নি-পোত্র সবুজ রানা (২০)। তিনজনই উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে মূল কারণ ছিল জমি-জমা নিয়ে বিরোধ। নিহত হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিন তার ১৭ বিঘা সম্পত্তির মধ্যে বসতবাড়িসহ ১৩ বিঘা ছেলে হাবিবুরকে লিখে দেন, বাকি জমি মেয়েদের মধ্যে বণ্টন করেন। হাবিবুরকে বেশি সম্পত্তি লেখে দেওয়ায় বোন ও ভগ্নিপতিদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এই জমিজমা বিরোধ কয়েক দিন ধরে চলছিল বলে পুলিশ জানায়।

পুলিশ সুপার জানান, শহিদুল, তার ছেলে শাহিন ও সবুজ রানাসহ কয়েকজন পরিকল্পনা করে হাবিবুরকে হত্যা করার প্রস্তাব নেয়। গত সোমবার বিকেলে হাবিবুর গরু কিনতে ছাতড়া বাজারে যান। ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গরু কিনতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত কেনেননি এবং বাড়ি ফিরে আগের মতো পরিবারের সঙ্গে মিলিত হন। ওই রাতে গ্রামের একটি মাঠে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।

পুলিশের তথ্যে, রাত আনুমানিক আটটার দিকে পরিকল্পিতভাবে হাবিবুরের বাড়িতে তারা যায়। সবাই একসঙ্গে খাওয়ার সময় অপব্যবহারের সুযোগ নিয়ে বাড়ির এক কমবয়সী সদস্য ছদ্মবেশ নিয়ে বাড়ির একটি ঘরে লুকিয়ে থাকে। সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর শাহিন বাড়ির মূল দরজা খুলে দেয় এবং সবুজ, শহিদুলসহ আরও পাঁচজন ঢুকেছে। প্রথমে নমির উদ্দিনের ঘরের বাইরে থাকা শিকল খুলে তাদের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়। এরপর ঘুমন্ত অবস্থায় হাবিবুরকে ঘরের ভেতর গলা কেটে হত্যা করা হয়।

হাবিবুরের স্ত্রী পপি সুলতানা বাড়ির অন্য ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে ছিলেন। খুনিরা পপিকে বের হওয়ার সময় আঘাত করে মাটিতে ফেলেন এবং পরে তাঁর গলা কেটে হত্যা করে। একইভাবে হাবিবুরের দুই সন্তান পারভেজ রহমান ও সাদিয়া-কেও হত্যা করা হয়। পুলিশ বলেছে, হত্যাকাণ্ডে মোট ছয়জন জড়িত থাকার খবর পাওয়া গেছে।

ঘটনার তদন্তে পুলিশ মঙ্গলবার থেকে অভিযান শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ রানা হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে একটি খড়ের পালায় লুকোনো অবস্থায় হত্যার কাজে ব্যবহৃত হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। এরপর বুধবার গ্রাম থেকে আরো একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপারের বরাতে জানানো হয়েছে, শহিদুল ও সবুজ পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে—হাবিবুরসহ সবাইকে মারলে নিহতের নামে থাকা সম্পত্তির অংশ তারা ভাগ করে পাবে, এমন পরিকল্পনা থেকেই হত্যা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, জয়ব্রত পাল, সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল আল মামুন শাওন, পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিব ও নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আরও ছব গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।