ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখেছে। যুদ্ধবিরতি বাড়ার খবরে তেলের দাম ঝিরিঝিরে কমে আসায় মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের স্থায়িত্ব সংক্রান্ত আশঙ্কা কিছুটা লঘুতর হয়েছে—ফলতই বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি-সম্পদ থেকে তুলনামূলক নিরাপদ আস্থাশীল ধাতুতে ঝুঁকে পড়েছেন, যার ধারাবাহিক প্রভাব পড়েছে সোনার দরেও।

রয়টার্সের তথ্যে বুধবার স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বাড়ে এবং প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৫৪ দশমিক ৮৯ ডলারে উঠেছে। একই সঙ্গে জুন মেয়াদের আন্তর্জাতিক স্বর্ণ ফিউচারের দর ১ দশমিক ১ শতাংশ পতিত হয়ে ৪ হাজার ৭৭২ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে।

এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই বাড়ানোর ঘোষণা দেন, যাতে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা সহজতর করা যায়। তবে এই একতরফা সিদ্ধান্তকে ইরান বা ইসরায়েল কতটা গ্রহণ করবে, তা এখনো সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়। বাজার বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার এই প্রসঙ্গে বলেন, “যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ফলে বাজারে সংকট কমার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। যদি আবার সংঘর্ষ শুরু হয়, তাহলে ডলারের মান বাড়বে, তেল ও সুদের হার বাড়বে এবং স্বর্ণের ওপর চাপ পড়বে।”

ঘোষণার প্রভাবেই বিশ্ব শেয়ারবাজারগুলোতে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে; ডলারের মান কিছুটা নিম্নমুখী ও তেলের দামও কমেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দর বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে মূল্যে চাপ সৃষ্টি হয়, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের চাহিদাকে প্রভাবিত করতে পারে। ব্রিটিশ বহুজাতিক ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড উল্লেখ করেছে যে, বর্তমানে স্বর্ণের এই দরবৃদ্ধি নাজুক—স্বল্পমেয়াদে দাম কমার ঝুঁকি থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি পুনরায় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে পারে।

অন্যদিকে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী প্রধান হিসেবে মনোনীত কেভিন ওয়ার্শ জানান যে, সুদের হার কমানোর বিষয়ে তিনি ট্রাম্পকে কোনো আগাম প্রতিশ্রুতি দেননি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংস্কার প্রয়াসে তিনি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুও তেজি ছিল—রুপার দাম বেড়ে ১.৭ শতাংশ হয়েছে এবং প্রতি আউন্স ৭৭.৯৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে; প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার নোট করা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারলে এই বাজারগুলোর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা টেকসই হতে পারে, আর বিড়ম্বিত পরিস্থিতি ফিরলে বাজারে আবারও তীব্র ওঠানামা দেখা যাবে।