ঢাকা | সোমবার | ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধানমন্ত্রীর জানান, পুলিশ হবে আইন অনুযায়ী, কোনো দলের নয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত হবে না বরং সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল আইন অনুযায়ী কাজ করবে। রোববার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে আয়োজিত ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘কল্যাণ প্যারেড’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিভিন্ন ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় পুলিশকে স্বার্থান্বেষী কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। এখনো সেই অপকর্মের দুঃসাহসতা থেকে বেরিয়ে আসতে হচ্ছে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারই পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সাধারণ মানুষ যেন থানায় গিয়ে মনে করে, তারা দেশের মালিক। কোন ভয় বা ভীতি ছাড়াই তারা অভিযোগ জানাতে পারেন—এমন আন্তরিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এভাবে মানুষের মধ্যে সংশ্লিষ্টতার অনুভূতি সৃষ্টি করাই পুলিশের দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে, পুলিশ চাইলে দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, আইনের পাশাপাশি মানবিক আচরণও পুলিশের সুনাম বৃদ্ধি করবে।

তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে পুলিশকে সরকারের ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিই যেন হয়রানির শিকার না হন সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আধুনিক ও মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডেটা অ্যানালিটিক্স, সাইবার সেক্টর ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত প্রক্রিয়া আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করার আহ্বান জানান। বর্তমান চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাহিনী গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন।

সাইবার অপরাধ, কিশোর গ্যাং, আর্থিক জালিয়াতি, অনলাইন জুয়া ও মাদক জটিলতার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে নারীর জন্য সাইবার বুলিং বড় হুমকি বলে তিনি গুরুত্ব দেন।

মাদককারবারি ও মাদক উৎপাদনের উৎসগুলোর ওপর কঠোর অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন তিনি। সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী চিহ্নিত করেন, গুম, অপহরণ ও বিচার বহির্ভূত অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষা করা পুলিশ বাহিনীর সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি জানান, পুলিশে বদলি, পদোন্নতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা ও সততা প্রধান গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি আবাসন, চিকিৎসা, রেশন ও ঝুঁকি ভাতা বৃদ্ধি করার বিষয়েও সরকারের সক্রিয় ভাবনা রয়েছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসন, দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো, ভঙ্গুর আইনী শাসন ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সরকার দায়িত্ব নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ধাপে ধাপে সব প্রতিশ্রুতি রূপায়ণে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার ভাষায়, অস্ত্রের শক্তির চেয়েও মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও নৈতিকতা হলো বড় শক্তি। তার লক্ষ্য একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা নিজেদের দাবি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সপ্তাহের কেক কেটে সম্মানজনক অভিষেক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।