পবিত্র ঈদুল আজহার ট্রেনによর ঈদযাত্রা শনিবার (২৩ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে রেলসচিব সাংবাদিকদের বলেন, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে এবং বর্তমানে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের কোনো আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না। এ সময় রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রেলসচিব জানান, সকাল থেকে বিভিন্ন ট্রেনের শিডিউল ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য ব্যবস্থা নিয়ে আরও একটি সভা করবেন। তিনি গত ঈদুল ফিতরের অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে বলেন, সামগ্রিকভাবে ব্যবস্থাপনা তখন ভালো ছিল, যদিও পশ্চিমাঞ্চলে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত ঘটনা এবং কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় লেভেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।
লোকোমোটিভ সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির কথাও রেলসচিব উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মিটারগেজ লোকোমোটিভ নিয়ে কিছু ঘাটতি রয়েছে, তাই পূর্বেই কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের সময় ৮৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সচল রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে; বর্তমানে ৭৮–৭৯টি প্রস্তুত রয়েছে এবং আগামীকাল থেকে তা ৮০টির বেশি করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, গ্রামীণ রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত দায়িত্ব পালন করবে বলে তিনি জানান। টিকিটবিহীন যাত্রীদের স্টেশনে প্রবেশ রোধে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, কারণ টিকিটবিহীনরাই সাধারণত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
রেলসচিব বলেন, যাত্রীচাপের কারণে এবারও ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট রাখা হয়েছে—ঈদের সময় ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ রুটে চাহিদা বেশি থাকে, যা পুরোপুরি মেটানো মুশকিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, মেট্রোপলিটন পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), র্যাব ও আনসার একসঙ্গে কাজ করছে; কমলাপুর স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছিনতাই, পকেটমার ও বিশৃঙ্খলা রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
রেলসচিব আশ্বাস দেন যে কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত এবং যাত্রীদের নিরাপদ, শৃঙ্খিত ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।







