ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

হালান্ড ও ওডেগার্ডকে নিয়ে নরওয়ের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

নরওয়ে তাদের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে, ছাত্রচিত্তে থাকা তারকা আর্লিং হালান্ড ও অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডকে নিয়ে। ১৯৯৮ সালের পর ২৮ বছর পর ফের বিশ্বকাপে খেলার মর্যাদা পাওয়ায় দেশের জন্য বোঝাপড়া ও আবেগ মিশ্রিত ক্ষণটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। এই ঘোষণাটি আরও বিশেষ করা হয় ৮৯ বছর বয়সী রাজা হারাল্ড পঞ্চমের একটি ভিডিও বার্তায়—রাজা নিজেই খেলোয়াড়দের নাম ঘোষণা করেন, যা জাতীয় গৌরব বাড়িয়েছে।

দলের নেতৃত্বে প্রাক-ইতিবাচকভাবেই আছেন আর্সেনালের মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ড। আক্রমণে প্রধান ভরসা হবেন ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আরলিং ব্রাউট হালান্ড। তাদের পাশে আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করতে জায়গা পেয়েছেন ফুলহ্যামের অস্কার বব এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের ফরোয়ার্ড ইয়োর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন। অভিজ্ঞতার সঙ্গেই তরুণদের সংমিশ্রণ বিভাগের সুবিধা তুলে ধরে দলটি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের নজরে ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

তালিকায় কয়েকটি বিস্ময়ও ছিল। এখনও কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলা হামবুর্গে খেলোয়াড় সান্ডার ট্যাংভিককে গোলরক্ষক হিসেবে সুযোগ দেয়া হয়েছে, যেখানে আরও দুই অভিজ্ঞ কিপার হিসেবে নাম আছে ওর্জান হাসকজোল্ড নিল্যান্ড ও এগিল সেলভিকের। রক্ষণে শক্তি যোগাবেন জুলিয়ান রিয়ারসন, ক্রিস্টোফার আয়ের ও লিও স্কিরি ওস্টিগার্ডের মতো পরীক্ষিত প্রতিরক্ষকরা। মোট মিলিয়ে দলটি রক্ষণ ও মাঝমাঠের ঘন বন্ধন তৈরি করে হালান্ডকে সামনে রেখে গোল আড্ডার কৌশলে নজর দিচ্ছে।

মিডফিল্ডে ওডেগার্ডের পাশে আছেন ফুলহামের স্যান্ডার বার্গ, বেনফিকার ফ্রেডরিক আউরসনেস এবং বোডো/গ্লিমটের প্যাট্রিক বার্গ। আক্রমণে হালান্ড ও লারসেনের সঙ্গে থাকছেন আলেকজান্ডার সরলথ ও আরবি লাইপজিগের উদীয়মান তারকা আন্তোনিও নুসা। নরওয়ের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১৬ জুন বোস্টনে ইরাকের বিপক্ষে, এরপর গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ সেনেগাল ও বর্তমান শীর্ষ দল ফ্রান্স।

সংক্ষেপে বলা যায়, নরওয়ের ঘোষিত দলটিতে নর্ডিক ফুটবলের ঐতিহ্য ও আধুনিক পেশাদারিত্বের মিশেল দেখা যাচ্ছে। রাজা যে ভিডিও বার্তায় দল ঘোষণা করেছেন তা খেলোয়াড়দের মধ্যে অতিরিক্ত দেশপ্রেম ও অনুপ্রেরণা যোগাবে—এমনটাই মনে করছেন সমর্থক ও বিশেষজ্ঞেরা। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরার এই যাত্রায় হালান্ড-ওডেগার্ডরা নরওয়ের হয়ে স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করতে মরিয়া থাকবে, এবং দেশের আশা-আকাঙ্খা তাদের শক্তি যোগাবে।